নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) আফগানিস্তানের চারজন শীর্ষস্থানীয় তালেবান নেতার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে নারী, মেয়ে শিশু এবং এলজিবিটিকিউআই+ (LGBTQI+) সম্প্রদায়ের ওপর লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়ন চালানোর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই পরোয়ানাগুলো জারি করা হয়েছিল।
আইসিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে এই পরোয়ানাগুলো জারি করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা, আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আব্দুল হাকিম হাক্কানি, শিক্ষামন্ত্রী হাবিবুল্লাহ আগা এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী নেদা মোহাম্মদ নাদিম।
আখুন্দজাদা ও হাক্কানির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির বিষয়টি গত বছরই প্রকাশ পেয়েছিল, তবে এতদিন তা গোপন রাখা হয়েছিল। বর্তমানে আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তালেবান এবং আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী না থাকায় এই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
২০২১ সালে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর থেকে তালেবান আফগান নারীদের কর্মসংস্থান, অধিকাংশ গণপরিসর এবং ষষ্ঠ শ্রেণীর পর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি গত বছর আখুন্দজাদা এমন এক নিয়ম জারি করেন, যার ফলে ঘরের জানালা দিয়ে বাইরের এমন কোনো জায়গা দেখা যাবে না যেখানে কোনো নারী বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন।
আইসিসির সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান গত বছরের জানুয়ারিতে আখুন্দজাদা ও হাক্কানির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির আবেদন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আফগান নারী ও মেয়েদের পাশাপাশি এলজিবিটিকিউআই+ সম্প্রদায় তালেবানের কাছ থেকে নজিরবিহীন, বিবেকবর্জিত এবং চলমান নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছে।
আইসিসির বিচারকরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চারজন তালেবানের পক্ষে কাজ করে এমন এক সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করেছেন যা আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। এর সাথে হত্যা, কারাদণ্ড, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক নিখোঁজ করার মতো অপরাধ জড়িত রয়েছে।
বিচারকদের মতে, তালেবানরা বিশেষভাবে নারী ও মেয়েদের তাদের লিঙ্গের কারণে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং শিক্ষা, গোপনীয়তা, পারিবারিক জীবন, চলাচল, মতপ্রকাশ, চিন্তা, বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে। এছাড়া, তালেবানের লিঙ্গনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন যৌনতা বা লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের কারণেও অন্যান্য ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সাথে, যারা নারী ও মেয়েদের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তাদের ওপরও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
গত বছর যখন এই দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গোপন পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, তখন মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিল। আইসিসির সাম্প্রতিক এই ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তালেবানের সাথে যোগাযোগ করেছে।

