মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বা ইরান সংঘাত নয়, বরং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শোধনাগার বন্ধ হওয়াকে দায়ী করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, "জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে হরমুজ প্রণালী আর কোনো বড় কারণ নয়, কারণ সেখান থেকে এখন প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো "উড়িয়ে দেওয়া" এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্র্যাট-শাসিত মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোতে শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত তেলের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সামরিক ও শিল্প অবকাঠামোতে রুশ হামলার জবাবে তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছেন।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন সাধারণ গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪.৩৭ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৪.১৫ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল মাত্র ৩.১৩ ডলার। বর্তমানের এই উচ্চ মূল্য আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড থেকে কিছুটা কমলেও বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক হারের চেয়ে অনেক বেশি।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি তেলের বাজারে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। রাশিয়া আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সরাসরি উৎপাদকদের মাধ্যমে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়ার তেল পরিশোধন ক্ষমতাও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বাজারে অস্থিরতা থাকলেও বর্তমানে ওই রুট দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল করতে গত শুক্রবার জি-৭ নেতারা জরুরি তেল রিজার্ভ থেকে আগামী চার মাসে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে মার্কিন প্রশাসন ও আইনপ্রণেতারা তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। নীতিনির্ধারকরা যেখানে বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করছেন, সেখানে ট্রাম্প বারবার সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বাজার পরিস্থিতিকেই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

