গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক বাগদত্তা কিম্বার্লি গিলফয়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগ উঠেছে। কেনটাকির ব্যবসায়ী এরিক ডিটার্স দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে গিলফয়েল তার কাছে ১ লাখ (100000) ডলার দাবি করেছিলেন। ডিটার্স এটিকে একটি স্পষ্ট ‘কুইড প্রো কো’ বা পারস্পরিক অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "এটি যে পে-টু-প্লে (টাকা দিয়ে সুবিধা নেওয়া) ছিল, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।"
২০২৫ (2025) সালে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে এবং গিলফয়েল ও ট্রাম্প জুনিয়রের বাগদান ভেঙে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্প গিলফয়েলকে গ্রিসের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু ডিটার্স বলেন, ট্রাম্প জুনিয়রের সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর থেকে গিলফয়েলের প্রভাব কমে গেছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ প্রথম রিপোর্ট করে যে, গিলফয়েল তার কংগ্রেসনাল শুনানির মাত্র কয়েক দিন আগে ডিটার্সের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তার আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের ১ লাখ (100000) ডলার ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ চেয়েছিলেন, যাতে তা জনসমক্ষে না আসে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিটার্স বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত কিম্বার্লি গিলফয়েলের জন্য, সেই মুহূর্তে আমার কাছে অতিরিক্ত ১০০,০০০ (100000) ডলার ছিল না, থাকলে আমি হয়তো এটি দেওয়ার মতো বোকা হতাম।"
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক ডিটার্স কেনটাকির একজন অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী ও ব্যবসায়ী, যাকে ২০২১ (2021) সালে ওহাইও সুপ্রিম কোর্ট অননুমোদিত আইন অনুশীলনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তিনি কেনটাকির গভর্নর এবং প্রতিনিধি থমাস ম্যাসির ইউএস হাউস আসনের জন্য অসফলভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ডিটার্স মূলত একজন পলাতক অর্থোপেডিক সার্জন ড. আবুবকর দুররানিকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, "আমি সুজি ওয়াইলস, ডন জুনিয়র এবং কিম্বার্লি গিলফয়েলকে একটি ইমেল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বলেছিলাম যে সোমবার বিকেল ৫ (5) টার মধ্যে দুররানির ভুক্তভোগীদের বিষয়ে আমাকে সাহায্য করতে হবে। তারা সাড়া না দেওয়ায় আমি মিডিয়ার সাহায্য নেওয়ার কথা জানাই।"
নথিতে দেখা যায়, ডিটার্স এর আগে গিলফয়েলকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ফি হিসেবে মোট ৩০০,০০০ (300000) ডলার দিয়েছিলেন। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে ২০০,০০০ (200000) ডলার, এরিক ট্রাম্পকে ১০০ (100) হাজার ডলার বা ১ লাখ (100000) ডলার এবং ট্রাম্পের পিএসি-কে ১২৫,০০০ (125000) ডলার দিয়েছিলেন। ডিটার্স অভিযোগ করেন, গিলফয়েল জানতেন এই লেনদেনগুলো অনৈতিক ছিল, তাই তিনি ডিটার্সকে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপ ব্যবহার করতে বলেছিলেন যাতে কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকে।
এই অভিযোগের বিষয়ে গ্রিস সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেনামী সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশন করা ঠিক নয়। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঋণ পরিশোধের দাবি করলে তা অবশ্যই অনভিপ্রেত, তবে তিনি এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত জানেন না।

