মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) জগতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা অ্যালেক্স পেরেইরা সম্প্রতি বক্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। কেন এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে বক্সিং রিংয়ে পা রাখা প্রায় অসম্ভব, তার একটি বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফাইটার।
পেরেইরা ইউএফসি-র মিডলওয়েট ও লাইট হেভিওয়েট উভয় বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। গত জুনে ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’-এ সিরিল গানের বিপক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন হেভিওয়েট শিরোপা লড়াইয়ের মাধ্যমে এই বিভাগে তাঁর অভিষেক হয়েছিল। তবে সেই ম্যাচে দ্বিতীয় রাউন্ডে টিকেও (TKO) হেরে যান তিনি। আগামী ডিসেম্বরে ‘ইউএফসি ৩৩৫’-এ সের্গেই পাভলোভিচের বিপক্ষে পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন পেরেইরা।
এই আসন্ন লড়াইয়ের আগে ‘ফ্রেড টকস ফাইটিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেরেইরাকে ভবিষ্যতে বক্সিং করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাঁর কোচ প্লিনিও ক্রুজ এই সাক্ষাৎকারে দোভাষী হিসেবে কাজ করেন। জবাবে ৩৯ বছর বয়সী পেরেইরা তাঁর চুক্তির বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইউএফসি-র সঙ্গে আমার চুক্তিতে এখনও সাতটি লড়াই বাকি আছে। আমার বয়স এখন ৩৯, তাই এটি (বক্সিংয়ে যাওয়া) এক প্রকার অসম্ভব। তবে এখানে (কোচ) প্লিনিওর সঙ্গে থাকতে পেরেই আমি খুশি।” ইউএফসি চুক্তি শেষ হওয়ার পর বক্সিং রিংয়ে নামবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, “না, আমি এভাবেই ভালো আছি।”
এদিকে, ইউএফসি ৩৩৫-এ সের্গেই পাভলোভিচের বিরুদ্ধে পেরেইরা কীভাবে জয়ী হতে পারেন, তা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন সাবেক ইউএফসি চ্যাম্পিয়ন ক্রিস ওয়াইডম্যান। ‘ডিপ ওয়াটার্স’ পডকাস্টের একটি পর্বে ওয়াইডম্যান পেরেইরার চ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “পেরেইরার সেই চ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতা রয়েছে। আমি বলব সে লড়াইয়ের পথ খুঁজে নেবে, তবে সত্যি বলতে এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।”
ওয়াইডম্যানের মতে, এই লড়াইয়ে পেরেইরার জন্য প্রধান অস্ত্র হতে পারে তাঁর ‘কাফ কিক’ বা পায়ের নিচের অংশে লাথি মারা। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় পেরেইরার জন্য কাফ কিকগুলোই হবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী। কিক বা লাথির মাধ্যমে সে পাভলোভিচকে বক্সিংয়ের নাগালের বাইরে রাখতে পারবে এবং ম্যাচের শুরুতে তাঁর পায়ে আঘাত করে তাঁকে দুর্বল করে দিতে পারবে।”
পেরেইরার পক্ষে বাজি ধরে সাবেক এই চ্যাম্পিয়ন আরও যোগ করেন, “আমাকে পেরেইরার পক্ষেই থাকতে হবে। আমার মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে সে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে। এই হারের পর সে অত্যন্ত হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তবে যখনই সে হেরেছে, প্রতিবারই সে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং জয়লাভ করেছে।”
