মার্কিন সামরিক বাহিনী আকাশপথে উদীয়মান ও জটিল হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে লকহিড মার্টিন নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর 'পিএসি-৩ এজ' (PAC-3 Edge) উন্মোচন করেছে। এই নতুন ব্যবস্থাটি মূলত হাইপারসনিক এবং অন্যান্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বিশ্বজুড়ে বহুগুণ বেড়েছে। এই বাড়তি চাহিদার চাপে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়ায় মার্কিন সেনাবাহিনী গত জুলাই মাসে লকহিড মার্টিনকে ৫৮.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মূল্যের একটি চুক্তি প্রদান করে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টরের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি করা।
লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, পিএসি-৩ এজ-এ নতুন সিকার, উন্নত ফ্লাইট কন্ট্রোল এবং নর্থরপ গ্রুম্যান সরবরাহকৃত মাল্টি-পালস রকেট মোটর যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে ইন্টারসেপ্টরটি অনেক বেশি দূরত্বে এবং উচ্চতায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন উন্নত হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে। কোম্পানিটির মিসাইলস অ্যান্ড ফায়ার কন্ট্রোল বিভাগের প্রেসিডেন্ট টিম কাহিল জানিয়েছেন, এটি বর্তমানে ব্যবহৃত পিএসি-৩ এমএসই (PAC-3 MSE) এর মতোই ব্যয়বহুল হবে। পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে গেলে এটি বছরে প্রায় ২,০০০ ইউনিট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে, যা পিএসি-৩ এমএসই-এর বর্তমান উৎপাদন হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কাহিল আরও জানান, পিএসি-৩ এজ ইন্টারসেপ্টরটি যুদ্ধের মাধ্যমে পরীক্ষিত পিএসি-৩ এমএসই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, দ্রুতগামী এবং সুনিপুণভাবে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে সক্ষম, যা মার্কিন সেনাবাহিনীর স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক অবস্থায় ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে লকহিড মার্টিন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাথে সাত বছরের একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৬০০ ইউনিট থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ ইউনিটে উন্নীত করা। লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, তারা পিএসি-৩ এজ-এর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেবে এবং ২০২৭ সাল থেকে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করবে, যাতে ২০৩১ সালের মধ্যে দ্রুত এটি মোতায়েন করা সম্ভব হয়।

