ব্রাজিলের বৃহত্তম আমাজন অঞ্চল মানাউসে দাবানল থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের চরম পর্যায়ে পৌঁছে দাবানলের এই ধোঁয়া শহরটির বায়ুর মানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মানাউস কর্তৃপক্ষ সরকারি দপ্তরে কর্মীদের সশরীরে উপস্থিতি স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং সরকারি স্কুলগুলোর পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মানাউসে বায়ুতে দূষণকারী উপাদানের ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে গড়ে ১৯৬ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছে। এটি স্বাভাবিক ৩ থেকে ৯ মাইক্রোগ্রামের তুলনায় অনেক বেশি এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমাজোনাস প্রদেশের অন্যান্য পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর দাবানল থেকে আসা ধোঁয়া গত কয়েক দিন ধরে মানাউসের জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই সংকট কেবল রাজধানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং হাজার হাজার পরিবারের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ওপর হুমকি তৈরি করেছে।
ব্রাজিলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমাজন অঞ্চলে ৩৩ হাজার ৫৫৬টি অগ্নিকাণ্ডের হটস্পট রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি, যদিও তা ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ কম। শুষ্ক মৌসুম শুরুর পর থেকে আমাজনের বিভিন্ন প্রান্তে আগুনের হটস্পট স্থানান্তরিত হয়েছে। শুরুতে রোরিমা ও আমাপা রাজ্যে আগুনের তীব্রতা থাকলেও সম্প্রতি তা মানাউস, দক্ষিণ আমাজোনাস এবং পারা রাজ্যের সান্তারেম এলাকার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে, যা আমাজনের আগামী বর্ষাকালকে ব্যাহত করতে পারে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের এল নিনোর সময় তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা গত দুই দশকের মধ্যে আমাজনের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের কারণ হয়েছিল। বিশ্ব জলবায়ুর জন্য আমাজন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুসংস্থান, যা বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড ধরে রাখে এবং আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে বেশিরভাগ দাবানল প্রাকৃতিক নয়, বরং মানুষের দ্বারা সৃষ্ট।
ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমাজোনাস রাজ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ জমির মালিকদের দাবানল প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নতুন করে যাতে আগুনের সূত্রপাত না হয় এবং অবৈধভাবে আগুন ব্যবহারের ঘটনা তদন্ত করতে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন জোরদার করা হয়েছে। তবে আমাজোনাস রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

