আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের বাকি দিনগুলোতে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছেন বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মোশতাক আহমেদ। বর্তমানে ম্যাচটি বেশ সমানে সমান অবস্থায় রয়েছে। দ্বিতীয় দিন শেষে আফগানিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ১৩৫ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে ছয় উইকেট নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দলটির অধিনায়ক রহমত শাহ অপরাজিত অর্ধশতক এবং ইকরাম আলিখিল অপরাজিত ২৬ রান করে বাংলাদেশের বোলারদের বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন।
ম্যাচের প্রথম দুই দিনে পিচ পেসারদের জন্য কিছুটা সহায়ক হলেও স্পিনারদের জন্য তেমন সুবিধা ছিল না। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে যে নয়টি উইকেট হারিয়েছে, তার সবকটিই নিয়েছেন আফগান পেসাররা। অন্যদিকে বাংলাদেশ দল তাদের বোলিং লাইনআপে দুইজন পেসার নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন উঠেছে। তবে মোশতাক আহমেদ মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, প্রথম তিন দিন পিচ তুলনামূলক ধীরগতির থাকবে এবং স্পিন কম হবে, কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পিচে স্পিন বাড়বে বলে তার বিশ্বাস। তিনি আরও যোগ করেন, আশা করছি আমরা এই স্কোর রক্ষা করতে পারব এবং দ্বিতীয় ইনিংসে আরও রান তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
তীব্র গরমের মধ্যে বোলারদের ফিটনেস বজায় রাখার বিষয়ে মোশতাক বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান এবং ছোট স্পেলে বোলিং করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করলে গরমের মধ্যে আঙুলে ক্লান্তি চলে আসে, তাই অধিনায়ক ও কোচিং প্যানেল বোলারদের ছোট স্পেলে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে। এছাড়া পেসার শরিফুল ইসলামের একাদশে না থাকা প্রসঙ্গে মোশতাক জানান, সম্ভবত পর্যাপ্ত বোলিং অনুশীলনের অভাবে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। এই গরমের মধ্যে পাঁচ দিনের টেস্ট খেলার জন্য বোলারদের উপযুক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, যা শরিফুলের ক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা কম ছিল বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের ওপেনার আব্দুল মালেক তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট অর্ধশতক পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালে অভিষেকের পর ১০ ইনিংসের বেশি সময় পার করে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। ৬২ রানের এই ইনিংসের সুবাদে তিনি দলের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। মালেক জানান, শুরুর দিকে উইকেট না হারিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ার দিকেই তাদের মূল মনোযোগ ছিল। রহমত শাহের সঙ্গে তার ৭০ রানের জুটি আফগানিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। ইবাদত হোসেনের বলে লিটন দাসের চমৎকার ক্যাচে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। পিচ থেকে বল কিছুটা ধীরে আসায় তারা বল দেরিতে খেলার কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, যার ফল তারা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মালেক।

