রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান বুঝিয়ে দিয়েছে যে ২০১৯ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এবার আর এত সহজ নয়। সাত বছর আগে শ্রীলঙ্কার দেওয়া তিনটি লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল পাকিস্তান, যার দুটিই ছিল ১৮২ রানের নিচে এবং একটি ছিল ঠিক ১৮২ রান। সেই স্মৃতির কথা মাথায় রেখেই সফরকারী অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও প্রথাগত ক্রিকেটীয় চিন্তার বিচারে এটি কিছুটা ব্যতিক্রমী ছিল। তবে এবার ১৮২ রানের লক্ষ্য বেশ সহাজেই টপকে যায় পাকিস্তান।
প্রথম ম্যাচ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। রাওয়ালপিন্ডির উইকেট উপমহাদেশের সাধারণ টি-টোয়েন্টি পিচের মতো ফিঙ্গারস্পিনারদের জন্য ততটা সহায়ক ছিল না। আর তাই বাধ্য হয়েই তিন প্রধান পেসার নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান। দলে অন্তত পাঁচজন সম্ভাব্য ওপেনার থাকা সত্ত্বেও ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। অভিজ্ঞ ফখর জামানকে ওপেনিংয়ে তুলে আনা হয় এবং সাইম আইয়ুবকে নামানো হয় ৫ নম্বরে।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার জন্য ইতিবাচক দিক ছিল ৩২ বছর বয়সী লাহিরু উদারার পারফরম্যান্স। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও এই ফরম্যাটে তাঁর প্রতিভা ও চাপের মুখে ব্যাটিং সামলানোর মানসিকতা স্পষ্ট দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কার ইনিংসজুড়ে তিনিই ছিলেন একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা ব্যাটার। তবে তাঁর এই লড়াই শ্রীলঙ্কার পুরো ব্যাটিং অর্ডারের দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ৭ নম্বরে নামা দুনিথ ওয়েল্লালাগের বড় শট খেলার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট, যা লঙ্কানদের ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
দীর্ঘ সফরের শুরুতে মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কম হলেও পাকিস্তান এখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। রবিবারের দ্বিতীয় ম্যাচটিও অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিন্ডিতে। প্রথম ম্যাচে আধিপত্য দেখানো পাকিস্তান এই ম্যাচ জিতেই সিরিজ নিজেদের নামে করতে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড সফর থেকে পরপর তিনটি বড় হারের পর শ্রীলঙ্কার এই পারফরম্যান্স দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। রবিবারের ম্যাচে জয় নিয়ে শ্রীলঙ্কা প্রমাণ করতে চাইবে যে এটি তাদের সাময়িক ব্যর্থতা, বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের আসল প্রতিফলন নয়।

