ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে চীনের উহান শহরের সাবেক মেয়র জৌ শিয়ানওয়াং-কে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সেদেশের একটি আদালত। শনিবার প্রকাশিত এক রায়ে এই সাজা ঘোষণার পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৭ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। মধ্য চীনের উহান শহরটি ছয় বছরেরও বেশি সময় আগে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল।
সাংকিউ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জৌ শিয়ানওয়াং তার প্রশাসনিক পদের অপব্যবহার করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অসংগত সুবিধা দেন। এর বিনিময়ে তিনি নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীসহ মোট ৬ কোটি ৫ লাখ ইউয়ানেরও বেশি (প্রায় ৯০ লাখ ডলার) ঘুষ গ্রহণ করেন। আদালত ঘুষের এই পরিমাণকে অত্যন্ত বিশাল বলে উল্লেখ করেছেন। তবে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করা, তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা এবং ঘুষের অধিকাংশ অর্থ ও সম্পত্তি উদ্ধার হওয়ায় তার সাজা কিছুটা কমানো হয়েছে।
উহানে কভিড-১৯ মহামারীর প্রাথমিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে জৌ শিয়ানওয়াং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তবে আদালতের নথিতে মহামারীর সেই প্রেক্ষাপটের কোনো উল্লেখ করা হয়নি; পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি তার ঘুষ গ্রহণের অপরাধের ওপরই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১২ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে তার সরকারের প্রধান নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হাজার হাজার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও রয়েছেন।
করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে তথ্য গোপন করার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার জবাবে জৌ শিয়ানওয়াং সে সময় বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সংক্রামক ব্যাধি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করার কোনো আইনি এখতিয়ার স্থানীয় সরকারের থাকে না। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উহানের হাসপাতালগুলোতে তীব্র জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা ভর্তি হতে শুরু করেন। এর পরপরই চীনের একটি গবেষণাগার ভাইরাসের প্রায় পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করে জানায় যে, এটি ২০০২-০৩ সালের সার্স (SARS) করোনাভাইরাসের সমগোত্রীয়। গবেষণাগারটি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করলেও সেই তথ্য গোপন রাখা হয়।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে স্বীকার করেন যে, দলবদ্ধভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। তবে প্রকাশ্যে তখনো ভাইরাসের সংক্রামক ক্ষমতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে উহান শহরকে টানা ৭৬ দিনের কঠোর লকডাউনের আওতায় আনা হয়।

