দক্ষিণ আফ্রিকার ডেপুটি পুলিশ প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল শাদরাক সিবিয়া তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। যৌন অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার তিন সপ্তাহ পর সোমবার তার শৃঙ্খলাজনিত শুনানির সময় আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুলিশ মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৫৯ বছর বয়সী সিবিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মানব পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। সিবিয়া ১৮ বছর বয়সী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করলেও তা সম্মতিমূলক ছিল বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত যৌন অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র আথলেন্দা মাথে এক্স-এ জানিয়েছেন, যেহেতু পদত্যাগের সময় সিবিয়ার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত মামলা চলমান ছিল, তাই তার এই বিদায়কে ‘অসম্মানজনক অব্যাহতি’ বা ‘ডিসঅনারেবল ডিসচার্জ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
যৌন অপরাধের পাশাপাশি সিবিয়ার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গত বছর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পুলিশে দুর্নীতি ও অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ নিয়ে গঠিত ‘মাদলাঙ্গা কমিশন’-এর শুনানিতে এই অভিযোগগুলো উঠে আসে।
মাদলাঙ্গা কমিশনের তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সিবিয়া কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন। এছাড়া একজন কথিত অপরাধী গডফাদারের কাছ থেকে পুলিশের চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নগদ অর্থ ও ২০টি ইম্পালা হরিণ উপহার নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপরাধী জগতের যোগসাজশের বিস্তর অভিযোগ নিয়ে মাদলাঙ্গা কমিশন গত এক বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই কমিশনটি গঠন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। কোয়াজুলু-নাটালের পুলিশ প্রধান তৎকালীন পুলিশ মন্ত্রী সেঞ্জো এমচুনুর বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগ তোলার পর এই কমিশন গঠন করা হয়। এমচুনু অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তাকে বর্তমানে বরখাস্ত করা হয়েছে।

