যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সম্ভবত ব্রিটিশ একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলার কথিত সন্ত্রাসী চক্রান্তের নির্দেশনা দিয়েছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই ইরানি নাগরিকের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
সোমবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহাম জানান, গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিতে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনার পর এই চক্রান্তটি সামনে আসে। এই বিমান ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ব্যবহার করে থাকে। ঘটনাটি নিয়ে বড় ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত শুরু হয় এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে এই চক্রান্তটি ইরান থেকে সমন্বিত হয়েছিল এবং এর পেছনে সম্ভবত আইআরজিসির হাত রয়েছে।
বার্নহাম দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ব্রিটিশ ভূখণ্ডে এমন হুমকি সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, ইরান যেসব অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ব্রিটিশ নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, তাদের দমনে সরকার সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এরই অংশ হিসেবে লন্ডনে থাকা দুই ইরানি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তাদের সম্পদ জব্দ করা, যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্রিটেনে ব্যবসা পরিচালনার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে এই ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়েছিল।
নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়াদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে তার কথা হয়েছে। সৌদি আরবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি ভয়েজার বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। বার্নহাম পার্লামেন্টে নিশ্চিত করেন যে, এরই মধ্যে ১৪টি অপারেশনাল মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় এই সহায়তা প্রয়োজন এবং হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য।

