আবু ধাবির প্রচণ্ড গরমে ইন-ফর্ম বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ দিনের কঠিন লড়াই শেষে ড্র করে নিজেদের টেস্ট ফরম্যাটে উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে আফগানিস্তান। নতুন টেস্ট অধিনায়ক রহমত শাহের মতে, এই ড্র আসলে জয়ের সমান। আফগানিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে মোট ১৪২ ওভার ব্যাটিং করেছে, যার মধ্যে শেষ দিনেই তারা ব্যাটিং করেছে ৯২ ওভার। এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের মূল কারিগর ছিলেন সেদিকউল্লাহ আতাল।
ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল সাত উইকেট এবং তারাই ছিল জয়ের দৌড়ে এগিয়ে। তবে আতাল নিজের আইডল অ্যালিস্টার কুকের মতো ধৈর্য ও সাহসিকতা দেখিয়ে পুরো চিত্র বদলে দেন। বাঁহাতি এই ওপেনার ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে তিনি আফগানিস্তানের হার বাঁচানোর লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
রহমত শাহ বলেন, "এই ড্র আসলে জয়ের সমান। আমাদের ছেলেদের প্রচেষ্টা ছিল অসাধারণ। আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম এবং বোলিং বা ব্যাটিং—সব ক্ষেত্রেই আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়েছি। যখন রান প্রয়োজন ছিল, আমরা রান করেছি; আর যখন সময় কাটানো দরকার ছিল, আমরা তা-ই করেছি। এ কারণেই আমরা ড্রয়ের দিকে যেতে পেরেছি।"
টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্ট ফরম্যাটে আতালের এই মানিয়ে নেওয়াকে বিশেষভাবে প্রশংসাও করেছেন রহমত। তিনি বলেন, "সেদিকউল্লাহ সরাসরি টি-টোয়েন্টি খেলে এখানে এসেছে। যেভাবে সে তার মেজাজ ধরে রেখেছে এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।"
আফগানিস্তানের ব্যাটিং কোচ টবি র্যাডফোর্ড জানান, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, "পুরো দল হিসেবে আমি খুশি যে এই ম্যাচে আমাদের দুজন খেলোয়াড় সেঞ্চুরি করেছে এবং অন্যরা হাফ-সেঞ্চুরি ও গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছে। শেষ দিনে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররাও দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ধৈর্য ধরে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করা। ডট বল বা মেডেন ওভারে বিচলিত না হয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে খেলে দিন পার করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।"
র্যাডফোর্ড আরও বলেন, "দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪০ ওভারের বেশি (৮০০ ডেলিভারি) এবং সাত ঘণ্টার বেশি সময় ব্যাটিং করা একটি বড় অর্জন। খেলোয়াড়দের ধৈর্য এবং শৃঙ্খলার সাথেই ব্যাটিং করা এই ড্রয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল। এটি সবার জন্য একটি অসাধারণ কৃতিত্ব।"

