২২ বছর বয়সী সাসেক্সের অলরাউন্ডার জেমস কোলস স্বীকার করেছেন যে, দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের নিলামে ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডের বিশাল মূল্য তার পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সফরের প্রস্তুতির ফাঁকে তিনি এ কথা জানান। মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী নিলামে লন্ডন স্পিরিট তাকে দলে ভেড়াতে পাঁচ দলের লড়াইয়ে জয়ী হয়। মূলত ইংল্যান্ডের খুব কম স্পিন-বোলিং অলরাউন্ডার উপলব্ধ থাকা এবং এর ঠিক আগেই অনুষ্ঠিত এসএ২০-এ ভালো পারফরম্যান্সের কারণেই তার এই চড়া দাম ওঠে।
টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্যাট হাতে কোলসের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। প্রথম চারটি ইনিংসে তিনি যথাক্রমে ১, ২, ২ এবং ০ রান করেন এবং সবকটিতেই তার দল পরাজিত হয়। টুর্নামেন্ট থেকে লন্ডন স্পিরিট কার্যত ছিটকে যাওয়ার পর শেষ তিন ইনিংসে তিনি ৩০ নট আউট, ৯ নট আউট এবং ২৯ রান করেন। পয়েন্ট টেবিলে বার্মিংহাম ফিনিক্সের উপরে থেকে সপ্তম স্থানে শেষ করে তার দল। টয়োটা পিসিএ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে কোলস বলেন, এই দামের কারণে তিনি বাড়তি স্পটলাইটে ছিলেন। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, তবে বল হাতে তিনি লন্ডন স্পিরিটের অন্যতম কার্যকর বোলার ছিলেন।
আগামী সোমবার হান্ড্রেডের রিটেনশন উইন্ডো খুললে লন্ডন স্পিরিট তাকে একই বেতনে ধরে রাখার সুযোগ পাবে। দলটির ক্রিকেট পরিচালক মো বোবাট টুর্নামেন্ট শেষে তাকে ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও তারা তাকে রিলিজ দিয়ে মার্চ মাসের নিলামে কম দামে পুনরায় কেনার কৌশলও নিতে পারে। কোলস আগামী বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলের সাথে পাকিস্তান সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনি মূলত অতিরিক্ত ব্যাটার হিসেবে দলে আছেন। যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জ্যাক বেথেল তার স্থলাভিষিক্ত হবেন, তবে সেই সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে কোলস রয়েছেন।
এই গ্রীষ্মে তিনটি সাদা বলের স্কোয়াডে থাকলেও এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি তার। সম্প্রতি ইসিবি তাকে ডেভেলপমেন্ট চুক্তি দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সফরের জন্য কোলস তাদের বিবেচনায় আছেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যাক কারসনের সাথে স্পিনার হিসেবে খেলে তিনি ২৯.১৪ গড়ে ২৭ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে খুব একটা সফল না হলেও গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে এক ইনিংসে ২২৪ রানসহ মোট ৬৯৪ রান করেছেন তিনি।
কোলস জানান, ইংল্যান্ড দলে জায়গা পাওয়ার জন্য তিনি বোলিংয়ের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছিলেন এবং সারা বছর সব ফরম্যাটে বোলিংয়ে ভালো করায় তিনি সন্তুষ্ট। উপমহাদেশে তার বোলিং মানানসই হবে বলে তিনি মনে করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। এছাড়া আগামী শীতে এমআই এমিরেটস ও সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ এবং আইপিএল নিলামেও নিজের নাম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পাওয়াকে নিজের স্বপ্নের মতো বলে বর্ণনা করেছেন এই অলরাউন্ডার।

