পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ৩৪ শিশু এবং একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় আরও ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটিতে এ ধরনের ঘটনায় এটি অন্যতম প্রাণঘাতী একটি ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম জানিয়েছেন, আল-খায়ের স্কুলের নিহত ও আহতদের বয়স ৬ থেকে ১২ বছরের মধ্যে, তবে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন শিক্ষার্থীর বয়স ছিল ১৪ বছর। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাদের সেবা দিচ্ছেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর জরুরি বিভাগের মুখপাত্র বিলাল ফয়জি জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলেছেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যখন তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে ক্লাসে ছিল, তখন দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে পড়ে। খবর পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী এই অভিযানে অংশ নেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের কারণে অন্তত ৪০ জনের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্কুলের শিক্ষিকা মাহউইশ জামান, যিনি নিজেও আহত হয়েছেন, হাসপাতাল থেকে জানান যে স্কুলটিতে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ শিক্ষার্থী ছিল। তিনি যখন ক্লাসে ছিলেন, তখন হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ে। পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, স্কুলের মালিক মোহাম্মদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভবনটির কাঠামো দুর্বল ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর মালিক দাবি করেছেন, এই সপ্তাহের বৃষ্টির কারণে ছাদগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত স্কুলে ছুটে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করেন। তার নিজের ছেলেও একই স্কুলে পড়ে, কিন্তু সে সময় পানি খাওয়ার জন্য ক্লাসের বাইরে থাকায় বেঁচে যায়। নিহতদের স্মরণে স্থানীয় রেহমান বাবা কবরস্থানে জানাজার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলাদা বিবৃতিতে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট জারদারি একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং স্কুল ভবনগুলো যেন নিরাপত্তা মান বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রাদেশিক সরকারও এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

