মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির হামলাকারী নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এর আগে ট্রাম্প এই মৃত্যুদণ্ড ইন্টারনেটে প্রচারের বিষয়টি অনুমোদন করেছিলেন, তবে তীব্র সমালোচনার মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, অনেক ভালো ও সুবিবেচক মানুষই এই মৃত্যু সরাসরি দেখতে চান না। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত সময়ে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমেই কার্যকর করা হবে, কিন্তু সেই ঘটনার কোনো সরাসরি সম্প্রচার হবে না। তবে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা সশরীরে উপস্থিত থেকে এই বিচার প্রক্রিয়া দেখার সুযোগ পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তারা ন্যায়বিচার দেখার যোগ্য।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিডাল হাসান গুলি চালিয়ে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে হত্যা করেন এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন। এটি ছিল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অ-যুদ্ধকালীন হামলা। ঘটনার পর আদালতে নিডাল হাসান স্বীকার করেছিলেন যে তিনি নিজেই হামলাকারী ছিলেন এবং তিনি দাবি করেছিলেন যে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাত থেকে মুসলিম ও তালেবানদের রক্ষা করতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছিলেন।
পেন্টাগন গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিল যে, আগামী ৩ ডিসেম্বর ২০২৬ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এটি গত ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা হতে যাচ্ছে। এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন যে মৃত্যুদণ্ডটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে মানুষ গুরুতর অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তিনি নিজে এটি দেখবেন না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবার নিডাল হাসানকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি কীভাবে মারা যাচ্ছেন তা তার কাছে বড় কথা নয়, তবে মৃত্যুদণ্ড তার জন্য উপযুক্ত শাস্তি। তিনি আরও বলেছিলেন যে পেন্টাগন তখনো বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। মার্কিন সামরিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এছাড়া উচ্চ আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত আইনি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়াও বাধ্যতামূলক। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১৭টি দেশে ২,৭০০ জনের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও মাত্র দুটি দেশে তা প্রকাশ্যে করা হয়েছে।

