পোল্যান্ডের ২০টিরও বেশি শহর ও জনপদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন নারীরা। মূলত দেশটিতে গর্ভপাতকে আইনি ও সহজলভ্য করার দাবিতে তারা এই আন্দোলনের আয়োজন করেছেন। পোল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে গর্ভপাত আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও গত মঙ্গলবার পোল্যান্ডের পার্লামেন্টে গর্ভপাত সংক্রান্ত দুটি বিল পাস হয়েছে, তবে ধারণা করা হচ্ছে রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোকি এই পদক্ষেপে ভেটো দেবেন।
ওয়ারশ ভিত্তিক প্রজনন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'অ্যাবরশন ড্রিম টিম'-এর জোফিয়া মার্সিনেক এই বিল পাসকে 'প্রতীকী পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আগামী বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে নারীদের সমর্থন পাওয়ার জন্য সরকার কেবল কাজ করার একটি ভান করছে, অথচ তারা জানে যে প্রেসিডেন্টের ভেটোর কারণে এই আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পোল্যান্ডে ১৯৯৩ সাল থেকে কেবল ভ্রূণের গুরুতর সমস্যা, মায়ের জীবনের ঝুঁকি অথবা ধর্ষণ ও অজাচারের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাতের অনুমতি রয়েছে। ২০১৬ সালে 'ব্ল্যাক প্রটেস্ট' নামের আন্দোলনের মাধ্যমে নারীরা গর্ভপাত বৈধ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নেয় এবং ২০২০ সালে তৎকালীন জাতীয়তাবাদী রক্ষণশীল সরকারের আমলে জন্মগত ত্রুটি থাকা ভ্রূণের গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে মাল্টার পর ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর গর্ভপাত আইন পোল্যান্ডেই বিদ্যমান।
দেশটিতে গর্ভপাত আইন কঠোর হলেও গোপনে এর চর্চা নিয়মিত ঘটছে। বেশিরভাগ নারী দেশের বাইরে থেকে আনা পিল ব্যবহার করে বাড়িতেই গর্ভপাত সম্পন্ন করেন। পোল্যান্ডের আইনে গর্ভপাত গ্রহণকারী নারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির বিধান নেই, তবে যারা তাদের সহায়তা করেন—যেমন চিকিৎসক বা পরিবারের সদস্য—তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
২০২৩ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড টাস্কের জোট গর্ভপাত আইন উদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে টাস্ক জানান, প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করা সম্ভব হবে না। এর পরিবর্তে হাসপাতালগুলো যেন ধর্মীয় কারণে গর্ভপাত সেবা প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে পোল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে ৫৭৩টি গর্ভপাত হয়েছে, যা ২০২২ সালের পুরো বছরের ৪টি ছিল। তবে কর্মীদের দাবি, প্রতি বছর হাজার হাজার গর্ভপাত হাসপাতালের বাইরেই সম্পন্ন হয়।
আন্দোলনকারীদের মতে, সরকারের দাবি যে গর্ভপাতের সুবিধা বেড়েছে, তা আসলে বিভ্রান্তিকর। জোফিয়া মার্সিনেক বলেন, নারীরা প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে মনে করেন গর্ভপাত সহজলভ্য, কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে তারা ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ফলে তারা যখন সহায়তার জন্য আমাদের কাছে আসেন, তখন পরিস্থিতি অনেক জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালে 'অ্যাবরশন ড্রিম টিম' ওয়ারশতে পার্লামেন্টের সামনে একটি 'গর্ভপাত ক্লিনিক' খুলেছে। এছাড়া এই সেপ্টেম্বরে তারা 'অ্যাবরটম্যাট' নামে একটি পার্সেল লকার চালু করেছে, যেখান থেকে নারীরা গোপন পিন ব্যবহার করে গর্ভপাতের পিল সংগ্রহ করতে পারেন। সংগঠনটির ভাষ্যমতে, পোল্যান্ডে গর্ভপাতে সহায়তা করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ায় তারা এই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনকে এড়িয়ে আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

