ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে শত শত সন্দেহভাজনকে গুলি করে আহত করেছে স্থানীয় পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) পরিচালিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের এসব গুলির ঘটনা ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলছে, যা দেশের আইনের শাসনকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এপি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে উত্তর প্রদেশে গরু পাচারের অভিযোগে প্রায় ৬৫০টি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গুলি করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’ এই তথ্যগুলো এপিকে সরবরাহ করেছে। এপি নিজস্বভাবে ২০০টির বেশি ঘটনার নমুনা যাচাই করে দেখেছে যে, ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী।
পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজগুলোতে প্রায় একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্দেহভাজনদের শরীরের হাঁটুর নিচের অংশে গুলি করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, স্থানীয় বিচারক ও বিরোধী দলের নেতাদের মতে, এসব ঘটনা বিচারবহির্ভূত শাস্তি এবং ভীতি প্রদর্শনের শামিল। নয়াদিল্লিভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবী মঙ্গলা ভার্মা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, তদন্তের পরিবর্তে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আহত বা হত্যা করে বিচার কার্য সম্পন্ন করার চর্চায় লিপ্ত হয়েছে।
তবে উত্তর প্রদেশ পুলিশের দাবি, অপরাধ দমনে ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব গুলি চালানো হয় এবং পুলিশ কেবল আত্মরক্ষার্থেই গুলি করেছে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অমিতাভ যশ এপিকে বলেন, পুলিশকে কেবল আত্মরক্ষার প্রয়োজনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, মাথাপিছু হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের তুলনায় উত্তর প্রদেশের পুলিশ অনেক কম সন্দেহভাজনকে হত্যা ও আহত করেছে।
ভারতে গরু সুরক্ষার আইন এবং গরু পাচারের অভিযোগ হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অনুসন্ধানটি মূলত পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০: ৪০আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০: ৪২

