মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অধীনে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা সাবেক নেত্রী অং সান সু চি অবশেষে তার ছেলের সাথে ফোনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সামরিক সরকার সু চির ছেলে কিম আরিসকে তার ৮১ বছর বয়সী মায়ের সাথে ২০ মিনিটের একটি ফোনালাপের অনুমতি দেয়। লন্ডনে মিয়ানমারের দূতাবাস থেকে এই কলটি করা হয়েছিল, যেখানে সু চি বর্তমানে রাজধানী নেপিদোতে কারাবন্দি রয়েছেন।
কিম আরিস জানান, পাঁচ বছর পর মায়ের কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয়েছে যেন খুব বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি। তিনি বলেন, 'মা আগের মতোই আছেন, তার কণ্ঠস্বর এখনো বেশ জোরালো।' তবে ঠান্ডা লাগার কারণে সু চির কণ্ঠ কিছুটা ভাঙা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও, কথোপকথনের শুরুতে সু চি একজন সাধারণ মায়ের মতোই তার ছেলের খোঁজখবর নিয়েছেন। কিম আরিস জানান, মা প্রথমেই জানতে চেয়েছেন তিনি নিজের যত্ন নিচ্ছেন কি না।
সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিম আরিস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সু চির ডান হাতে প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে এবং সম্ভবত তিনি টেন্ডিনাইটিসে ভুগছেন, যার ফলে মাঝে মাঝে হাতটি ব্যবহার করতে পারছেন না। এছাড়া সামরিক ডাক্তারদের মাধ্যমে প্রতি ছয় মাস অন্তর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও, তাদের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিম সন্দেহ প্রকাশ করেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে অং সান সু চি বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মানবাধিকার সংস্থা ও সমর্থকরা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। তাকে বর্তমানে ১৮ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে। এর আগে ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি গৃহবন্দি ছিলেন। কিম আরিস জানান, বর্তমান বন্দিদশায় তাকে মূলত নির্জন কারাবাসেই রাখা হয়েছে, যেখানে বাগান হিসেবে কথিত সামান্য কিছু জায়গা ছাড়া খুব কম সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে।
কিম আরিস তার মায়ের মুক্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এমনকি তার মায়ের বেঁচে থাকার প্রমাণ পেতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। গত জুন মাসে তিনি লন্ডনে ৮১ কিলোমিটার স্কেটবোর্ডিং ম্যারাথন সম্পন্ন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সু চির জন্মদিন উদযাপন এবং তার মুক্তির দাবিতে জনসচেতনতা তৈরি করা।
এদিকে, মিয়ানমারের সামরিক সরকার সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সরকার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পাঠানো বাগান করা বিষয়ক দুটি বই এবং কিছু কূটনৈতিক চিঠিপত্র সু চির কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে চাইলেও, দেশটির ভেতরে সামরিক বাহিনী এখনো গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

