আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউক্স সিটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি সমাবেশের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে, সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতার নেতা জন থুনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন। এটি ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ের অংশ, যেখানে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন জোগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, রিপাবলিকানরা একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইরান যুদ্ধ এবং ক্রমাগত উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা সিনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য ধরে রাখাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। জন থুনে স্বীকার করেছেন যে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয় এবং নির্বাচনী লড়াইটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।
৬৫ বছর বয়সী জন থুনে দুই বছর আগে সিনেট নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কাজের ধরণকে সহকর্মীরা 'শান্ত' এবং 'যৌক্তিক' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যাক্স, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা এজেন্ডা সফলভাবে সিনেটে পাশ করিয়ে নিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সাথে তার সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে ২০১৬ সালে এক ভিডিও টেপ প্রকাশের পর থুনে ট্রাম্পকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় থুনে বারবার জোর দিয়েছেন যে ভোটাররা তাদের কাজের রেকর্ড এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বিশ্বাস করেন, রিপাবলিকানরা যদি তাদের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক এজেন্ডা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখা সম্ভব। তবে দলের ভেতরেই কিছু সদস্য, যেমন সিনেটর জন কেনেডি, থুনেকে নীতি নির্ধারণে 'অতিরিক্ত সতর্ক' বলে সমালোচনা করেছেন।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং গ্যাসের উচ্চমূল্য ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটরা এই বিষয়গুলো নিয়ে রিপাবলিকানদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। থুনে তার দলের প্রার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের প্রচারণার ওপর মনোযোগ দেন এবং ট্রাম্পের এজেন্ডার সাথে দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন।
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, থুনে জানিয়েছেন তিনি নেতৃত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেছেন, সিনেটের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া বজায় রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা তার এই ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের ওপর আস্থা রাখেন কি না।

