কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত সূচনার পরও বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর চতুর্থ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহ করা স্বাগতিকরা হঠাৎই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে ৯টি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রানে অলআউট হয় টেম্বা বাভুমার দল। অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে অজি পেসার মিচেল স্টার্ক ৭২ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন।
টস জিতে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে প্রথম সেশনে তাদের বোলিং কিছুটা ধারহীন মনে হয়েছিল। তবে প্রথম উইকেট জুটিতে ১৪০ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার আইডেন মারক্রাম ও মার্কেস অ্যাকারম্যান দারুণ সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাট চালান। মারক্রাম প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা উইকেটে থেকে ৭৮ রান করেন। তবে জোশ হ্যাজলউডের বলে ফাইন লেগে মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এসএটোয়েন্টি-তে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ ও ডারবান সুপার জায়ান্টসে একসঙ্গে খেলা অভিজ্ঞ মারক্রামের প্রশংসায় অ্যাকারম্যান বলেন, "ও আমার কাঁধে হাত রেখে গাইড করেছে, কী প্রত্যাশা করতে হবে আর কোন শটগুলো খেলা উচিত তা বলেছে। ওর মতো অভিজ্ঞ ও শান্ত মাথার একজনের সঙ্গে ওপেন করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।"
মারক্রামের বিদায়ের পর শতকের পথে হাঁটতে থাকা মার্কেস অ্যাকারম্যান ৯৫ রানে আউট হয়ে যান। ৯৪ বলের ইনিংসে ১২টি চার এবং নাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্সকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারা দুটি ছক্কা ছিল। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ক্রিজে থেকে মারকুটে মেজাজে খেলা অ্যাকারম্যান লায়নের একটি ফ্ল্যাট ও ওয়াইড বলে লেগসাইডে চড়াও হতে গিয়ে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির হাতে সহজ স্টাম্পড হন। সেঞ্চুরি মিস করা প্রসঙ্গে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "যে তরবারি দিয়ে আপনি বাঁচবেন, তাতেই মরবেন— ক্যারিয়ারজুড়ে আমি এটি শিখেছি। তবে হ্যাঁ, একটি টেস্ট সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছি। এতে আমি মোটেও খুশি নই। তবে এটি আমাকে আগামীতে সুযোগ পেলে প্রথম শতক করার প্রেরণা দেবে।"
অ্যাকারম্যানের বিদায়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে ধস নামে। দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে মাত্র ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা, যার মধ্যে শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ২৯ রানে। গত সপ্তাহে সেন্ট জর্জ পার্কে ১৭৯ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা করতালির অভিবাদনে উইকেটে এলেও লায়নের সোজা বলে বোল্ড হওয়ার আগে হ্যাজলউডের মাত্র দুটি বল সামলাতে পেরেছিলেন। এরপর ম্যাথিউ ব্রিটজকে নিজের ব্যাটের জায়গায় প্যাড বাড়িয়ে দিয়ে কুপার কনোলির প্রথম টেস্ট উইকেটে পরিণত হন। ডেভিড বেডিংহাম ১৪টি ইনিংসে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি (৫০) পূর্ণ করার দুই বল পরেই স্টার্ককে অনর্থক ওভারবাউন্ডারি মারতে গিয়ে রেলওয়ে স্ট্যান্ডের সীমানায় হ্যাজলউডের ক্যাচ হন। পরের বলে উইয়ান মুল্ডার স্টার্কের শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।
দলীয় বিপর্যয় নিয়ে অ্যাকারম্যান বলেন, "আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। হয়তো কয়েকটি আলগা শটে উইকেট পড়েছে। আমার ও আইডেনের বিদায়ের পর কোনো বড় জুটি হয়নি। বেডিংহামের সঙ্গে কারো অন্তত এক সেশন থাকার দরকার ছিল। দুর্ভাগ্যবশত আমরা গুচ্ছ আকারে উইকেট হারিয়েছি। তবে প্লেঙ্ক (মার্কো জানসেন) ও রিকেলটনের জুটিতে আমরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম।"
সাত নম্বর উইকেটে মার্কো জানসেন ও রায়ান রিকেলটন ৯৫ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার পরই ছবিটা আবার বদলে যায়। নতুন বলের চতুর্থ ডেলিভারিতেই স্টার্কের আউটসুইং ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হন রিকেলটন (৪২)। আলো কমে আসা নিয়ে অ্যাকারম্যান বলেন, "প্রথম বলের চেয়ে দ্বিতীয় নতুন বল অনেক বেশি সুইং করছিল। যখন রোদ ছিল তখন এতটা করেনি। চারপাশ অন্ধকার ও কঠিন হয়ে পড়েছিল, তাই খারাপ আলোর জন্য খেলা বন্ধ না হওয়াটা আফসোসের।"
রিকেলটনের বিদায়ের দুই বল পর ইনসুইঙ্গারে জানসেনকে (৫২) বোল্ড করেন স্টার্ক। তার পরের বলেই জেরার্ড কোয়েটজিকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন এই বাঁহাতি পেসার। কাগিসো রাবাদা হ্যাটট্রিক বল ঠেকিয়ে দিলেও তার পরের বলেই এলবিডব্লিউ হলে ৩২৯ রানে থমকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস। শেষপর্যন্ত স্টার্ক ৭২ রান খরচায় ৬টি উইকেট পান। ১৪০/০ অবস্থা থেকে ৩২৯ রানে অলআউট হওয়ার এই হতাশা স্বাগতিকদের বেশ বড় চাপের মুখেই ফেলে দিল।

