বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আরনব’ ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। প্রলয়ঙ্করী এই ঝড়ের আশঙ্কায় দেশের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আরনব আরও শক্তিশালী হয়ে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়েছে। বুধবার সকালের মধ্যে এটি প্রবল দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতসহ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝড়ের আগাম সতর্কতায় নিচু ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও তীব্র বাতাস শুরু হওয়ায় বেশ কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অফিসিয়াল এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশে এ পর্যন্ত অন্তত ৮৯,০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথের মধ্যে ১২ মিলিয়নেরও বেশি (১ কোটি ২০ লাখের বেশি) মানুষ বসবাস করছেন।
প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার (পিটিআই) তথ্যের ভিত্তিতে অন্ধ্রপ্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা প্রখর জৈন জানান, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) বেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার ও বুধবার উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত এবং তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রখর জৈন আরও জানান, আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় অন্ধ্রপ্রদেশের ২০টি জেলাজুড়ে ২,০০০টিরও বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং লাখ লাখ বাসিন্দার মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপকূলজুড়ে ৩০,০০০টিরও বেশি মাছ ধরার নৌকা নিরাপদে নোঙর করা হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রায় ১,১০০টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪৮,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ওড়িশা রাজ্য কর্তৃপক্ষ।

