সার্বিয়ায় এক নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে বলকান অঞ্চল। প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ ছাত্র-সমর্থিত প্রার্থীদের কাছে নির্বাচনে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। এর ফলে রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার তরুণ, যারা দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান চেয়ে উৎসব পালন করছে। দীর্ঘদিন ধরে বেলগ্রেডের পার্লামেন্ট ও ভুচিচের কার্যালয়ের মধ্যবর্তী একটি পার্ক তার সমর্থক ও এনফোর্সারদের দখলে ছিল, যেখানে বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের বাধা দেওয়া হতো। ভুচিচের পরাজয়ের পর সেই ব্যারিকেড ও তাঁবুগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা যেন দেশটির ক্ষমতার পরিবর্তনেরই প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুচিচের পরাজয়ের এই ঘটনাটি প্রতিবেশী দেশ হাঙ্গেরির পরিস্থিতির সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানেও দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা ভিক্টর অরবানকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে। হাঙ্গেরিতে নতুন রাজনৈতিক মুখ পেটার মায়ার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছেন। মায়ার তার ‘তিজা’ পার্টির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন, যা হাঙ্গেরির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি তৈরি করেছিল। হাঙ্গেরির এই জয় সার্বিয়ার তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানিয়েছেন মায়ার।
সার্বিয়ার ছাত্র আন্দোলন এখন একটি জরাজীর্ণ গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাদের তালিকায় বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা থাকলেও রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাদের খুব একটা নেই। এছাড়া নতুন প্রধানমন্ত্রীর নামও এখনো রহস্যের আড়ালে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইভান মিলেনকোভিচ সতর্ক করে বলেছেন, ভুচিচের প্রভাব পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে এবং এই ‘অক্টোপাস’ তাড়ানো অত্যন্ত জটিল কাজ হবে। এছাড়া ভুচিচ নিজেও নতুন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। আলবেনিয়ায় শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী এডি রামাসহ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রূপ নিয়েছে। আলবেনিয়ার তিরানায় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষও ঘটেছে। স্পেনের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মারিয়া সিলভেস্ত্রে মনে করেন, ইউরোপের তরুণরা বর্তমানে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার বোধ থেকে রাস্তায় নামছে। সার্বিয়ার অধ্যাপক দেজান পাভলোভিচের মতে, অভিজ্ঞতাহীনতাই এই তরুণদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত নেতাদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করেছে।

