সোমবার গভীর রাতে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জর্ডান বিমান হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা) জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে জর্ডানের সরকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ আল মোমানি মঙ্গলবার দাবি করেছেন, এই অভিযানে ২০ জনেরও বেশি দায়েশ সদস্য নিহত হয়েছে এবং একটি বড় অস্ত্রাগার ধ্বংস হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী সংগঠনের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই সামরিক অভিযানের কারণ হিসেবে তারা গত শুক্রবার জর্ডানের কারাক প্রদেশে হামুদ গির্জায় শোক পালনকারীদের ওপর চালানো সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে নয়জন নিহত হয়েছিলেন। জর্ডানের দাবি, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সাথে ওই হামলার যোগসূত্র ছিল। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও যানবাহন ধ্বংস হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছে, তবে তারা নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের নাম বা হামলার সঠিক স্থান উল্লেখ করেনি।
সানা জানিয়েছে, দারা প্রদেশে একাধিক স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য পরিচালকের তথ্যমতে, দারা শহরের তারিক আল সাদ এলাকার ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা গেছেন। এছাড়া মুজাইরিব এলাকায় দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের তাফাস ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সিরিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হিসেবে সাতজন নিহত হয়েছেন, যদিও সানা পাঁচজন বেসামরিক নিহতের কথা উল্লেখ করেছে।
জর্ডানের সরকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ আল মোমানি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, জর্ডান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড ও হুমকির বিষয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিল। বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মোমানি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেসামরিক মানুষের উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকায় হামলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। এদিকে, কারাক গির্জায় হামলার ঘটনায় জড়িত তিন সন্দেহভাজনকে সোমবার গ্রেপ্তার করেছে জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী। পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, কারাকে গোলাগুলির পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ সময় কোনো নিরাপত্তা কর্মী আহত হননি।
সিরিয়া সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি সিরিয়ার আকাশসীমার অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। দামেস্ক জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করছে। সিরিয়া জোর দিয়ে বলেছে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন। জর্ডানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সিরিয়ার অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা করে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমন্বয় রয়েছে। মোমানি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জর্ডান ও সিরিয়া একটি যৌথ কমিটি গঠন করবে, যা সন্ত্রাস দমনে সমন্বয় বাড়াবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, জর্ডানের নিরাপত্তা ও সিরিয়ার নিরাপত্তা অভিন্ন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা উভয় দেশেরই লক্ষ্য।

