তানজানিয়ার প্রধান বিরোধী দল চাদেমা’র কারাবন্দী নেতা তুন্দু লিসু তার সংক্ষিপ্ত অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তার প্রধান আইনজীবী রুগেমেলেজা এনশালা জানিয়েছেন, কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে ছোট ভাইয়ের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার অনুমতি দেওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
লিসু বর্তমানে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আটক রয়েছেন, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। গত ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাবন্দী এবং আগামী ৬ নভেম্বর তার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। আইনজীবী এনশালা জানান, কারাগারের ভেতরে আইনি পরামর্শের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ না থাকায় প্রতিবাদস্বরূপ লিসু সোমবার থেকে অনশনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি অনশন স্থগিত করেন। তবে সোমবার সেই সাক্ষাৎ না হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনি খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেন।
এনশালা বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর ভাইয়ের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়ার পর লিসু তার অনশন ভেঙেছেন। এর আগে তিনি সকালের চা, নাস্তা ও দুপুরের খাবার গ্রহণ করেননি। লিসুর নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হওয়ায় অনশন নিয়ে তার স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা করেছিলেন আইনজীবী। কারাগার কর্তৃপক্ষ বা সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এনশালা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, বিভিন্ন সময় তাকে লিসুর সাথে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
লিসু ২০১৭ সালে হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় নির্বাসনে ছিলেন। গত ৯ এপ্রিল ২০২৫ সালে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের দিনই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে মে মাসেও তিনি আদালতে সশরীরে হাজিরার দাবিতে অনশন করেছিলেন।
এদিকে, চাদেমা দল অক্টোবরের নির্বাচনের সময় সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই শোক পালন করা হবে এবং দলের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। দলের মহাসচিব জন মনিয়িকা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বাধীন তানজানিয়ান প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গত এপ্রিলে প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাচনের সময় অন্তত ৫১৮ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়, তবে দলের দাবি এই সংখ্যা প্রায় ২,০০০। জাতিসংঘও এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

