ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোর প্রধান রেল স্টেশনে একটি রুশ জেট-চালিত ড্রোন আঘাত হেনেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সানদ্র হানজা জানিয়েছেন, হামলায় আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক বালকও রয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেল অপারেটর 'উকরজালিজনিৎসিয়া' জানিয়েছে, হামলার সময় স্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে জাপোরিঝিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। রেল অপারেটর প্রধান ওলেক্সানদ্র পার্তসোভস্কি জানান, হামলার আগে ওই এলাকায় উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ড্রোন আঘাত হানার সময় প্ল্যাটফর্মে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দিনিপ্রোর মেয়র বোরিস ফিলাতভ এই ঘটনাকে একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, একটি ড্রোন বৈদ্যুতিক বেসামরিক ট্রেনে আঘাত করেছে। ইউক্রেনীয় উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে বড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে এবং বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনের জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী এমন একটি প্ল্যাটফর্মে ড্রোন হামলা চালিয়েছে যেখানে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
এদিকে, ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। আঞ্চলিক প্রধান ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। এছাড়া পোলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবন ও একটি স্কুলে রুশ ড্রোন হামলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, রেলওয়ে নেটওয়ার্কে তাদের হামলা শুধুমাত্র সামরিক কর্মী ও সরঞ্জাম পরিবহনের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। তবে ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোয় হামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উকরজালিজনিৎসিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫২১টি লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই চলতি বছরের ঘটনা। সামগ্রিকভাবে রেল স্থাপনায় হামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের ১,২০৬টি থেকে বেড়ে এ বছর ১,৭০০-তে দাঁড়িয়েছে।
হামলার শিকার দিনিপ্রো ও চেরনিহিভ শহরে শুক্রবার শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, মস্কোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে ক্রেমলিন। মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, গত রাতে অঞ্চলটির দিকে ৬১৩টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল, যার বেশিরভাগই আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। ইউক্রেনের মানবাধিকার ওম্বুডসম্যান দিমিত্রো লুবিনেটস টেলিগ্রামে লিখেছেন যে, যুদ্ধবিরতি তৃতীয় দিনেও কার্যকর রয়েছে।

