স্পেনের কাছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দাবি করেছেন, ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে তারাই বিশ্বজয়ী হতেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে ১-০ গোলের জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন। ম্যাচ শেষে লস এদুল চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনজো এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
আলবিসেলেস্তে টক মারফত প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, “আমরা যদি টাইব্রেকারে পৌঁছাতে পারতাম, তবে বিশ্বকাপটি আমাদেরই হতো। আমাদের দলে দিবু মার্তিনেজ ছিলেন, আর আমরা সবাই জানি পেনাল্টি শুটআউটে তিনি কখনোই ব্যর্থ হন না।” তিনি আরও জানান, পুরো বিশ্বকাপ ফাইনাল জুড়ে ডান হাতের অনামিকায় ফ্র্যাকচার বা ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেছেন দিবু। ফার্নান্দেজের ভাষ্যমতে, “তিনি আঙুল ঠিকমতো নাড়াতেও পারছিলেন না, এটি অবিশ্বাস্য এক পাগলামি ছিল। তবে এটাই দিবু, তিনি এক কথায় অসাধারণ।”
মার্তিনেজ ফাইনালের আগেই জানিয়েছিলেন যে, গত ২০ মে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ফ্রাইবুর্গের বিরুদ্ধে অ্যাস্টন ভিলার ৩-০ ব্যবধানের জয়ের আগে ওয়ার্ম-আপের সময় তার ডান হাতের আঙুলে আঘাত লেগেছিল। স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ১১টি সেভ করেন তিনি, যা কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখা স্পেনের বিপরীতে আর্জেন্টিনা ম্যাচের ১১৭তম মিনিটের আগে কোনো গোলপোস্টে শটই নিতে পারেনি।
ম্যাচে ফার্নান্দেজ নিজেও পুরো সময় মাঠে থাকতে পারেননি। ৯৩তম মিনিটে পাউ কুবার্সির বিরুদ্ধে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে তিনি মাঠ ছাড়েন। ফলে পুরো অতিরিক্ত সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। অবশেষে ১০৬তম মিনিটে স্পেনের জয়সূচক গোলটি আসে ডান দিক থেকে—পেদ্রো পরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস হেডে বল বাড়িয়ে দিলে বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে জড়ান।
নিজের লাল কার্ড পাওয়া নিয়ে ফার্নান্দেজ বলেন, এই সিদ্ধান্ত তাকে এখনও কষ্ট দেয়, তবে খেলাধুলার অংশ হিসেবে তিনি তা মেনে নিয়েছেন। টুর্নামেন্টের আগের ধাপগুলোতে কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হওয়ায় পুরো দলের ওপর শারীরিক ক্লান্তি ভর করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ম্যাচ ঘিরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিষয়ে তিনি জানান, তার বাবা-মা ফোন করে কি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান তেমন কিছুই ঘটেনি। তিনি স্পেনকে 'যোগ্য চ্যাম্পিয়ন' হিসেবেই অভিহিত করেন।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ২০১০ সালের পর প্রথম ও ইতিহাসে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে তুলল। ফাইনালে ওঠার পথে তারা অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে পরাজিত করেছিল। অন্যদিকে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এই ম্যাচ দিয়েই ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জাঁকজমকপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে, যা পরবর্তীতে বেনিনের বিরুদ্ধে এক বিদায়ী ম্যাচের মাধ্যমে চূড়ান্ত অবসরে রূপ নেয়।

