পোপ লিও চতুর্দশ প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। ভ্যাটিকান শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শিকাগোর ঠিকানায় মেইল-ইন ব্যালট জমা দিয়েছেন মার্কিন বংশোদ্ভূত এই পোপ। নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পোপের দায়িত্ব পাওয়ার আগে কার্ডিনাল রবার্ট প্রিভোস্ট হিসেবে পরিচিত এই ধর্মগুরু যখনই যোগ্য ছিলেন, তখনই মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে ভ্যাটিকান প্রেস অফিস জানিয়েছে। ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ যে একটি অধিকার এবং কর্তব্য, সেই বিশ্বাসই পোপ প্রকাশ করেছেন।
শিকাগো সান-টাইমস সর্বপ্রথম পোপের ভোট দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। উইল কাউন্টি ক্লার্কের অফিসের চিফ অফ স্টাফের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ নিউ লেনক্সের একটি ঠিকানায় নিবন্ধিত এবং গত ৩ অক্টোবর তিনি মেইল-ইন ব্যালটের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ফুসফুসের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন আগেই তিনি এই অনুরোধ করেন।
অস্ত্রোপচারের পর ১৭ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পোপ বর্তমানে ভ্যাটিকানে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছেন। আগামী মাসে তার দক্ষিণ আমেরিকা সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আগে গত মাসে ভ্যাটিকানে এক সাধারণ সভায় পোপ বলেছিলেন, বর্তমান ঘটনাপ্রবাহের প্রতি বিশ্বাসীদের সব ধরনের জড়তা ও উদাসীনতা ত্যাগ করা উচিত।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপের নাগরিক সম্পৃক্ততার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পেরুতে প্রায় দুই দশক মিশনারি ও বিশপ হিসেবে কাজ করার সময়ও তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং পেরু উভয় দেশেরই নাগরিক। ইলিনয় স্টেট বোর্ড অফ ইলেকশনের রেকর্ড অনুযায়ী, রবার্ট প্রিভোস্ট হিসেবে তিনি কুক কাউন্টিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে তিনি পাঁচটি প্রাইমারি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন—এর মধ্যে ২০০৮ ও ২০১৯ সালে ডেমোক্রেটিক এবং ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রিপাবলিকান ব্যালটে। ইলিনয়ে ক্লোজড প্রাইমারি থাকায় ভোটারদের ব্যালট পাওয়ার জন্য দলীয় পছন্দ জানাতে হয়, তবে সাধারণ নির্বাচনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এপি জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২০ ও ২০২২ সাল ছাড়া প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনেই তিনি ভোট দিয়েছেন।

