পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনাল নিয়ে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে দেশটির রক্ষণশীল বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্কের সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাভিয়েৎস্কি শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য হলো একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করা, যা পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বিরোধী দল এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার মারেক জুরেককে প্রস্তাব করেছে। মোরাভিয়েৎস্কির ভাষ্যমতে, এই প্রযুক্তিগত সরকার নতুন পার্লামেন্টারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
এই রাজনৈতিক অস্থিরতা পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালকে কেন্দ্র করে আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোকি এই ঘটনাপ্রবাহকে সাংবিধানিক কাঠামোর লঙ্ঘন এবং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর বলপূর্বক দখলের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সেনেগাল সফর সংক্ষিপ্ত করে ওয়ারশতে ফিরে এসেছেন এবং শনিবার বিকেলে পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের সঙ্গে জরুরি আলোচনার ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূলত বিচারক আনা করউইন-পিওত্রোভস্কা ট্রাইব্যুনালের প্রধান বগদান শিয়েজকোভস্কিকে বরখাস্ত করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। বগদান শিয়েজকোভস্কি এবং বিরোধী দল 'ল অ্যান্ড জাস্টিস' (পিআইএস) এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, তুস্ক সরকারের দাবি, ২০২৩ সালে পিআইএস-এর আট বছরের শাসনকাল শেষ হওয়ার পর তারা বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মাধ্যমে আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকার পরিকল্পিতভাবে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

