ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ছড়িয়ে পড়া দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক এবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা এই আশঙ্কাজনক মাইলফলকে পৌঁছেছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশে মোট এবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ১০,৩৫১ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশটির আটটি প্রদেশ—ওত-উয়েলে, ইতুরি, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, বা-উয়েলে, শোপো, দক্ষিণ উবাঙ্গি এবং উত্তর উবাঙ্গি এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবের পর এটিই বিশ্বজুড়ে এবোলা সংক্রমণের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘটনা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত শুক্রবার আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে উত্তর কিভু ও ইতুরি প্রদেশে এবোলায় আক্রান্ত হয়ে দুই তরুণ কঙ্গোলিজ চিকিৎসকের প্রাণহানির পর এই সতর্কতা জারি করে সংস্থাটি।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, রোগটি নিয়ন্ত্রণে মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও কন্টাক্ট ট্রেসিং বা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের ঘাটতি। নিশ্চিত হওয়া মোট রোগীর মাত্র ১২ শতাংশ আগে থেকে জানা কন্টাক্টদের মধ্য থেকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটেছে কঙ্গোর স্থানীয় জনপদ ও কমিউনিটির ভেতরেই।

