ভারতীয় তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী এবং একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) দলের ব্যাটার হওয়ার স্পষ্ট সম্ভাবনা দেখছেন সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে একটি প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে যুবরাজ দাবি করেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা অভিষেকের ভারতের ৫০ ওভারের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া উচিত। এছাড়া তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি অভিষেকের উদার মনোভাবের প্রশংসা করে তিনি তাকে একজন সফল দলনেতা হিসেবেও অভিহিত করেন।
অভিষেকের নেতৃত্বের গুণের কথা বলতে গিয়ে উদীয়মান তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে তার রসায়নের কথা তুলে ধরেন যুবরাজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা স্থায়ী না হলেও তরুণ সূর্যবংশীকে প্রায়শই মেন্টরিং করতে দেখা যায় অভিষেককে। সম্প্রতি ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই দুজনে মিলে মাত্র ৭.১ ওভারে ১৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন, যেখানে অভিষেক অসাধারণ একটি সেঞ্চুরি করেন এবং সূর্যবংশী ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। যুবরাজ উল্লেখ করেন, জুনিয়র ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে অভিষেকের মধ্যে কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই। চলতি বছরের শুরুর দিকে আইপিএল এলিমিনেটরে অভিষেকের নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্রতিপক্ষ হলেও সূর্যবংশী ৯৭ রানে (২৯ বলে) আউট হওয়ার পর সর্বপ্রথম তাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন অভিষেক।
ক্রিকবাজকে যুবরাজ বলেন, "অভিষেকের অধিনায়ক হওয়ার মতো যোগ্যতা আছে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি, তবে আমি মনে করি তার মধ্যে নেতৃত্বের সব ধরনের গুণ রয়েছে। সে রাজ্য ক্রিকেটেও তরুণদের উৎসাহিত করে। বৈভবের কাঁধে হাত রেখে সে যেভাবে তাকে অনুপ্রাণিত করে, তা আমার খুব পছন্দ। এটি একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভালো লক্ষণ।" তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে চাইলে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়। ভাগ্য সহায় থাকলে অভিষেক সুযোগ পাবেন, তবে অধিনায়ক হন বা না হন, তিনি একজন দুর্দান্ত হোয়াইট-বল ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করবেন বলে আশাবাদী যুবরাজ।
বিশ্বকাপের আগেই অভিষেককে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সুযোগ দেওয়ার জোরালো দাবি জানান যুবরাজ। জানা গেছে, ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও ওডিআই সেটআপে অভিষেকের অন্তর্ভুক্তি চান। যুবরাজ বলেন, ৩৫ রান, ৩১ রান বা ১০০ রান যাই হোক না কেন, মূল বিষয় হলো সে দীর্ঘদিন ধরে হোয়াইট-বল ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে আসছে। ওডিআই দলে সুযোগ পেতে তাকে আর কী করতে হবে তা তিনি জানেন না। হয়তো বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তাকে আরও অবদান রাখতে হবে, তবে সে জন্য আগে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দলে জায়গা পাওয়ার লড়াই কঠিন স্বীকার করেও যুবরাজ বলেন, সূর্যবংশী যদি টি-টোয়েন্টি দলে নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে পারে, তবে অভিষেককেও ওডিআই দলে জায়গা করে দেওয়া উচিত।
ক্রিকেটের বাইরে অভিষেকের ব্যাটিং টেকনিক ও মানসিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে গলফ খেলা। কোভিড মহামারীর সময়ে গুরু যুবরাজ সিংই তরুণ এই শিষ্যের হাতে গলফ ক্লাব তুলে দিয়েছিলেন, যাতে ক্রিকেট থেকে খানিকটা মানসিক বিশ্রাম পাওয়া যায়। এরপর থেকে এই খেলাটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন অভিষেক এবং চণ্ডীগড়, নতুন দিল্লির গলফ কোর্সের পাশাপাশি ইতালি দ্বীপ সার্দিনিয়া ও মরক্কোর মারাকেশের মতো মনোরম স্থানেও যুবরাজের সঙ্গে গলফ খেলেছেন। এমনকি আইপিএল চলাকালীন হায়দ্রাবাদ বা প্রতিপক্ষের ভেন্যুতে বিদেশি সতীর্থদের সঙ্গে তিনি গলফ খেলেন। সাবেক ক্রিকেটার কিরণ মোরে ব্যাটারদের ওপর গলফের ইতিবাচক প্রভাব ব্যাখ্যা করে বলেন, গলফ ব্যাটের সুইং এবং মাথার পজিশন ঠিক রাখতে প্রচুর সাহায্য করে। অভিষেকের ক্ষেত্রে তার উপরের হাত (বাঁহাত) প্রসারিত হয়, যা সুইং বাড়ায়। এটি মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মনসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, যা ক্রিকেটেও খুব কার্যকর। গলফের বিশাল ব্যাট সুইং ও টাইমিং অভিষেকের পাওয়ার হিটিং এবং শটে উচ্চতা ও দূরত্ব আনতেও সাহায্য করছে বলে ধারণা করা হয়।

