মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারীরা মাত্র ৩৫.১ ওভারে আট উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। চতুর্থ ইনিংসে টাইগার স্পিনারদের ধারহীন বোলিংয়ে হতাশ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের দুটি উইকেটই শিকার করেন পেসাররা, যেখানে স্পিনাররা একেবারেই ছিলেন নিষ্ফল।
মিরপুরের উইকেটে টেস্ট ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো চতুর্থ ইনিংসে ২৫ ওভারের বেশি বল করেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। পুরো ম্যাচে ক্যারিবীয় স্পিনারদের ঝুলিতে ১৬টি উইকেট গেলেও স্বাগতিক স্পিনাররা নিতে পেরেছেন মাত্র আটটি উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকান ও রোস্টন চেজ উভয়েই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত জানান, উইকেটের কন্ডিশন বিবেচনায় ১৭০ রান ডিফেন্ড করা সম্ভব বলেই তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু স্পিনাররা সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারেননি।
স্পিনারদের বোলিং নিয়ে শান্ত বলেন, আমার মনে হয় আমরা সঠিক লেন্থ বুঝতে পারিনি এবং বোলিং বেশ ধারাবাহিকতাহীন ছিল। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে তারা যেভাবে সহজে ব্যাটিং করেছে এবং আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিতে পেরেছি, তা অনেক কিছু প্রকাশ করে। ম্যাচ হেরে গেলেও আমরা যদি অন্তত সাত বা আটটি উইকেট নিতে পারতাম, তবে বলা যেত যে আমাদের সংগৃহীত রান কম ছিল। তাই সেই জায়গাটিতে নিশ্চিতভাবেই ঘাটতি ছিল।
ম্যাচে ১১৬ রান দিয়ে নয় উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। তবে ওয়ারিকানের এই সাফল্যকে তার অসাধারণ বোলিংয়ের চেয়ে নিজেদের বাজে ব্যাটিংয়ের ফল হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রতিপক্ষকে কোনো অসম্মান না জানিয়েই শান্ত মন্তব্য করেন, তাদের স্পিনারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের চেয়ে আমাদের বাজে ব্যাটিংই বেশি দায়ী ছিল। আমরা তাকে আরও অনেক ভালো খেলতে পারতাম।
একই সাথে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছেন শান্ত। শেষ চার টেস্টে মাত্র পাঁচটি উইকেট পাওয়া তাইজুল এই ম্যাচে ৩৮.১ ওভারে ১৩০ রান দিয়ে পেয়েছিলেন দুই উইকেট। তাইজুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে শান্ত বলেন, তাইজুল বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করে আসছে। একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে সে হয়তো সেরাটা দিতে পারেনি, তবে এমনটা হতেই পারে। দীর্ঘদিনের সেরা পারফরমারকে হুট করে বিচার করা ঠিক নয় এবং দ্বিতীয় টেস্টেই সে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করি।
মিরপুরের স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরি করা প্রসঙ্গে শান্ত স্পষ্ট করেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েই উইকেট তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম দুই দিনে পিচের আচরণ ভালো থাকলেও ব্যাটাররা ভালো শুরুর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ রেখে বা অন্য কোনো কারণে এই উইকেট তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘরের মাঠে ও বিদেশে আমাদের স্পিনারদের সাফল্য রয়েছে। মেহেদী হাসান মিরাজ বা তাইজুল অতীতে আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। নিজেদের স্পিন শক্তির ওপর ভরসা রেখেই কন্ডিশন তৈরি করা হয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত এবার কৌশলটি কাজে আসেনি।

