ইউরোপের ছয়টি দেশের বিভিন্ন সুপারমার্কেটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে দোকানগুলোর রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজার সিস্টেম অচল হয়ে পড়েছে। এই হামলার কারণে ফ্রিজারের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে, ফলে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে লাখ লাখ ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বেলজিয়ামের কোম্পানি সাবকোবেল, যারা ডেলহাইজের রেফ্রিজারেশন সিস্টেম পরিচালনা করে, জানিয়েছে যে তাদের ইউনিটের ইভাপোরেটরগুলো ডিফ্রস্ট মোডে চলে যাওয়ার কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে। গত মাসে ফ্রান্সের সুপারমার্কেটগুলোতে ঠিক একই ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। সাবকোবেলের সিইও স্টিফান মোয়েলানস বেলগা নিউজ এজেন্সিকে জানান, তারা সারারাত কাজ করে আক্রান্ত ইউনিটগুলোকে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত অক্টোবরের শুরুতে ফ্রান্সের ঘটনার পর থেকেই তারা ফ্রিজারগুলোকে এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, তবে এর জন্য কেবল সফটওয়্যার আপডেট নয়, বরং শারীরিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
বেলজিয়ামের হেইলার্ট এলাকার একটি ডেলহাইজ শাখা জানিয়েছে, তাদের প্রায় ১ লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া কারফোর জানিয়েছে, তাদের ১৫টি বেলজিয়াম স্টোর আক্রান্ত হলেও তারা দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছে। কলরুট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের পাঁচটি স্পার স্টোরও এই হামলার শিকার হয়েছে।
সুইডেনে আইসিএ এবং কোপ স্টোরগুলোও এই হামলার কবলে পড়েছে। স্টকহোমের একটি আইসিএ স্টোরের কর্মীকে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিতে দেখা গেছে। সুইডিশ কোম্পানি কোপ জানিয়েছে, তাদের ৮০০টি স্টোরের মধ্যে সাতটি আক্রান্ত হয়েছিল, তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের বাইরের কিছু স্টোর এই হামলার শিকার হয়েছে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিচ্ছে।
আয়ারল্যান্ডে ১৩টি সুপারভ্যালু সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন সিস্টেম এই সাইবার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের অন্তত ১৭টি কোম্পানি, যার মধ্যে কসাইখানা ও ছোট দোকান রয়েছে, তাদের সিস্টেম হ্যাক হয়েছে বলে ড্যানিশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ড্যানফস জানিয়েছে। এস্তোনিয়ার একটি সেলভার সুপারমার্কেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের প্রায় ৪০টি ডেলহাইজ সুপারমার্কেট এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং এস্তোনিয়ার বেশ কিছু দোকানেও এর প্রভাব পড়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দোকানের ফ্রিজারের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে কারা জড়িত তা স্পষ্ট নয়। বেলজিয়াম ও সুইডেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।

