যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেন আমলের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘মহায়ড়যন্ত্র’ তদন্তের দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ ফ্লোরিডার শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর জেসন রেডিং কুইনোনেস শুক্রবার আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মামলার স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়ে পড়া মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিওজে) উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে আরও একটি প্রভাবশালী পদত্যাগের ঘটনা এটি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি কুইনোনেসের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন। তিনি সহিংস অপরাধ, পাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে কুইনোনেসের ভূমিকা ও কাজের প্রশংসা করেন। তবে বিচার বিভাগের বিবৃতিতে তার হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কুইনোনেস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে জীবনের সেরা সুযোগ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “একত্রে আমরা যা অর্জন করেছি তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। একই সাথে আমাদের মহান রাষ্ট্রের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমি বিদায় নিচ্ছি।”
কুইনোনেসের আগে গত সেপ্টেম্বরে এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে মতভেদের জেরে ১৯৮০-এর দশকে ওয়াশিংটন ডিসির সাবেক ইউএস অ্যাটর্নি জো ডিজেনোভাও আকস্মিক পদত্যাগ করেছিলেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটারের কার্যালয় থেকে ফ্লোরিডায় দুজন অ্যাটর্নি পাঠানো হয়েছিল মামলাটি তদারকিতে সহায়তা করতে। তবে ডিজেনোভা ও কুইনোনেস উভয়েই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত সাবেক হোয়াইট হাউসের আইনজীবী কার্ট ওলসেনও এই তদন্ত থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া তদন্তের কাজে সাময়িকভাবে নিযুক্ত আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মেয়াদ শেষে নিজ নিজ মূল অ্যাটর্নি কার্যালয়ে ফিরে যান। এমনকি চলতি বছরের শুরুর দিকে কুইনোনেসের কার্যালয়ের প্রধান পেশাদার প্রসিকিউটর, যিনি তদন্ত তদারকি করছিলেন, প্রমাণের গভীরতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর তাকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে গত অক্টোবরের শেষের দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেছিলেন যে কুইনোনেস সবসময় এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। তদন্ত থেকে কর্মকর্তাদের চলে যাওয়ার বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “মানুষ প্রতিনিয়তই আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে।” সেইসঙ্গে তদন্তের গতি নিয়ে বিচার বিভাগের কোনো হতাশা নেই জানিয়ে ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “আমরা তদন্তটিকে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দেব।” উল্লেখ্য, গ্র্যান্ড জুরিতে এ বিষয়ে ব্যাপক কর্মকাণ্ড হলেও কোনো সামগ্রিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি।
কুইনোনেসের পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটে বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধিলনের বিদায়ের পরদিনই। কিউবান শরণার্থীদের সন্তান কুইনোনেস দক্ষিণ ফ্লোরিডায় কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের অপরাধী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে কিউবা-কেন্দ্রিক একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন। প্রায় ৩০ বছর আগে কিউবান সামরিক বাহিনী কর্তৃক দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রো এবং অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়াও তদারকি করছিলেন তিনি।
এছাড়া কুইনোনেসের কার্যালয় ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি নতুন ফৌজদারি তদন্তের কাজ করছিল। মাদুরো বর্তমানে মাদক ও নির্যাতন সংক্রান্ত ফৌজদারি অভিযোগে নিউইয়র্ক সিটির একটি কারাগারে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। মিয়ামি-ভিত্তিক এই তদন্তটি মূলত দুর্নীতির ওপর জোর দিচ্ছে, যা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সহযোগী এবং ভেনেজুয়েলার শিল্প ও জাতীয় উৎপাদন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত করার কিছুদিন আগে শুরু হয়। সম্প্রতি সাব দোষ স্বীকার করার ফলে তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরদের তথ্যপ্রমাণ দিয়ে সহায়তা করবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

