মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর মঙ্গলবারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইরানে এক দফা 'ভারী' হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সেন্টকম আরও জানায়, এই যৌথ হামলাটি গত ৭২ ঘণ্টায় ৩০টিরও বেশি আইআরজিসি-নির্দেশিত ড্রোন হামলার জবাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসী লজিস্টিক ও অস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
এই হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্থাপনা। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, তেল শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেশম ও আবাদান দ্বীপপুঞ্জ হামলার শিকার হয়েছে। ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশমের চাহ তাঙ্গু এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে মার্কিন হামলায় একই পরিবারের বাবা, মা ও তাদের ২ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।
ইরানে অবস্থানরত স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ০৩:৪০ থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। দ্বীপের দক্ষিণে বসবাসরত ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বিবিসি ফারসিকে জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন কারণ পরিস্থিতি এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার তাদের ভূখণ্ডের দিকে আসা পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার আইআরজিসি দাবি করেছিল, তারা জর্ডানে মার্কিন বিমান ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে সতর্কতা উপেক্ষা করায় তিনটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার কথাও তারা উল্লেখ করে। গত শুক্রবার টানা ১৩ দিনের তীব্র বোমা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক বিরতি দিয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতির নতুন অবনতির পর আবার সংঘাত শুরু হলো।
এদিকে, মিশরের একটি বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সেদেশের সরকার জানিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরাকি সরকারের সাথে সমন্বয় করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ইরাকের প্রেসিডেন্সি এই হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে।

