উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় (Ceuta) হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অনিয়মিত অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়কে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র অভিবাসীদের উসকে দিচ্ছে।
ভেঙে পড়েছে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সেউতার স্বায়ত্তশাসিত সরকারের প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ক্যাডেনা সের-কে জানান, গত কয়েক দিনে সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেউতার মোট জনসংখ্যার অনুপাতে এটি প্রায় দুই শতাংশের সমান। পুরো স্পেনের প্রেক্ষাপটে হিসাব করলে বিষয়টি দাঁড়ায় এক দিনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অবৈধভাবে দেশে ঢুকে পড়ার শামিল।”
মূল স্পেনের উল্টো চিত্র সেউতায়
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মূল স্পেনে অবৈধ অনুপ্রবেশের সংখ্যা উল্টো কমেছে। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ১৭ হাজার ৯৯০ জন অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন, চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৩৮ জনে।
তবে সেউতা ভূখণ্ডের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যেখানে স্থলপথে মাত্র ৯৭৮ জন প্রবেশ করেছিলেন, ২০২৬ সালের একই সময়ে তা ১৬৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫৮২ জনে গিয়ে পৌঁছেছে।

নেপথ্যে আদালতের রায় ও টিকটক-ফেসবুকের অপপ্রচার
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের মতে, সংকটের মূলে রয়েছে আদালতের একটি রায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার।
গত ২৯ জুন স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে নির্দেশ দেন, সমুদ্রপথে সেউতা ও মেলিলতায় পৌঁছানো অভিবাসীদের সঠিক আইনি প্রক্রিয়া বা শুনানি ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না।
যদিও এই রায় কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশকে বৈধতা দেয়নি বা স্পেনে স্থায়ী থাকার নিশ্চয়তা দেয়নি, তবুও এটি মরক্কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই (RTVE) জানিয়েছে, পাচারকারী চক্রগুলো এই রায়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তরুণদের বোঝাচ্ছে যে একবার সেউতায় পৌঁছাতে পারলেই আর ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। আর সেই প্রলোভনে পড়েই হাজার হাজার তরুণ এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র সাঁতরে স্প্যানিশ ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছেন।
