পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার কাবাল শহরে ঘটা এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয়জন বেসামরিক নাগরিক এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। হামলায় আরও দুই ডজন মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ প্রধান ওমর খান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে সমাবেশে বক্তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত করার দাবি জানান। দীর্ঘদিনের সহিংসতায় বিপর্যস্ত এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ভীতিমুক্ত জীবন যাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র বিলাল ফয়েজি জানিয়েছেন, হামলাকারী এমন এক সময়ে বিস্ফোরণ ঘটায় যখন সেখানে শান্তি ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী স্লোগান চলছিল।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা ঘোষণা করেছেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের লড়াই অব্যাহত থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
সোয়াত উপত্যকা একসময় ইসলামিক জঙ্গিদের শক্ত ঘাঁটি ছিল, যারা সেখানে কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। ২০০৭ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের মাধ্যমে তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জঙ্গিদের পুনরায় উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তালেবানবিরোধী সমাবেশের আয়োজন করছেন।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সন্দেহের তীর তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) দিকেই থাকছে। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের সাথে মিত্রতা বজায় রাখে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
শুক্রবার সামরিক মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানে ৩,১৪৫টি ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়ে ২,০৮৪ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৮১৯ জন পাকিস্তানি, যার মধ্যে সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, নিহত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এ বছর পাকিস্তানে চালানো ২৮টি আত্মঘাতী হামলার বেশিরভাগই আফগান নাগরিক বা আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

