ইউক্রেন যুদ্ধের কঠোর সমালোচক এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম বিরোধী মুখ বরিস নাদেজদিন রাশিয়া ত্যাগ করেছেন। ৬৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ সোমবার টেলিগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, “সুসংবাদ হলো আমি বেঁচে আছি এবং মুক্ত। দুর্ভাগ্যবশত, আপাতত রাশিয়ায় নেই।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের জীবন নিয়ে পরিকল্পনা করার জন্য তাকে এখন সময় নিতে হবে।
নাদেজদিনের রাশিয়া ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন তিনি এ বছর অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে সরকারি বাধার মুখে পড়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তিনি পুতিনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তার জমা দেওয়া ৯ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষরকে অবৈধ ঘোষণা করায় তিনি নির্বাচনের অযোগ্য বিবেচিত হন। পুতিন সেই নির্বাচনে কেবল নামমাত্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং সহজেই পঞ্চম মেয়াদে জয়লাভ করেন।
সরকারি দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই মাসে একটি রুশ আদালত তাকে ‘চরমপন্থী প্রতীক’ প্রদর্শনের দায়ে প্রায় ১৩ ডলার জরিমানা করে। নাদেজদিন এই অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মূলত ২০২৩ সালের একটি অনলাইন ভিডিওতে প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির ছবি থাকায় এই মামলা করা হয়েছিল। একই মাসে তাকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবেও তালিকাভুক্ত করা হয়, যা রাশিয়ায় সরকারি নজরদারি এবং সামাজিক কলঙ্ক বাড়িয়ে দেয়।
একসময় সরকারি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা নাদেজদিন ১৯৯০-এর দশকে পুতিনের বর্তমান শীর্ষ সহযোগী সের্গেই কিরিয়েঙ্কোর উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি একজন আইনপ্রণেতা এবং সম্প্রতি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাশিয়ায় বসবাসরত হাতেগোনা কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুতিন সমালোচকদের একজন ছিলেন।
চলতি বছরের শুরুতে নাদেজদিন নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন এবং ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরেও তার প্রতীকী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পুলিশ তাকে সাময়িকভাবে আটকও করেছিল এবং তখন থেকেই তিনি বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, যদিও সে সময় তাকে দেশত্যাগে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সোমবারের ভিডিও থেকে এটি স্পষ্ট নয় যে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, নাকি তিনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দেশ ছেড়েছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে দেশটিতে ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকার কর্মী এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন বহুগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শত শত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি পার্লামেন্টে তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া, যেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক যন্ত্রণা ও জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে, যা কর্তৃপক্ষের সহনশীলতা আরও কমিয়ে দিয়েছে।

