ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিযুক্ত তার দেশের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্তেফানিশিনাকে বরখাস্ত করেছেন। গত মাসে ইউক্রেন সরকারের বড় ধরনের রদবদলের পর থেকেই এই পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ছিল। সোমবার এক ডিক্রির মাধ্যমে এই বরখাস্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন এক সময়ে এই পরিবর্তন ঘটল যখন কিয়েভ রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
ফেসবুকে নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার একটি চিঠি পোস্ট করে ওলগা স্তেফানিশিনা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তটি তার একান্ত ব্যক্তিগত এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণেই তিনি এটি নিয়েছেন। ওয়াশিংটনে তার দায়িত্ব পালনকে তিনি জীবনের 'সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবেশ ইউক্রেনের প্রতিকূলে যাওয়ার সময়ও তারা আমেরিকান অস্ত্রের সরবরাহ বাড়াতে এবং সমর্থন বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ওলগা স্তেফানিশিনা এর আগে ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের জুলাই মাসে তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের টিকে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের সরবরাহ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই পদটি দেশটির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প ইউক্রেনীয় নেতার প্রতি কিছুটা উৎসাহমূলক মনোভাব দেখিয়েছেন। এদিকে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওলগা স্তেফানিশিনা দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্তের মুখে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না করা হলেও দুর্নীতির সন্দেহে এই তদন্ত চলছে। জেলেনস্কি এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কোনো রাষ্ট্রদূতের নাম ঘোষণা করেননি।

