চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনিপাড়ার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর ফরাজী প্রথমবারের মতো ভ্যানিলা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। চার বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর তার খামারে এখন ভ্যানিলার গাছে ফুল থেকে ফল ধরেছে। তিনি তার এই কৃষি প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘নিউ কামাল এগ্রো’।
জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগমপুর কলোনিপাড়ায় হুমায়ুনের এই খামারটি গড়ে উঠেছে। খামারের একপাশে ডেইরি ইউনিট এবং অন্যপাশে দুম্বা, ছাগল ও ভেড়ার খামার রয়েছে। এর পাশেই ১০ কাঠা জায়গা নেট দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে ভ্যানিলা বাগান। এই নেটের ভেতরে ৬০০ থেকে ৭০০টি পিলারের ওপর লতায়-পাতায় ভ্যানিলা গাছ বেড়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা ভ্যানিলা ফল ঝুলে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
হুমায়ুন কবীর জানান, কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন কারওয়ান বাজারে আম ও বিভিন্ন ফলের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। তার বাবার কুষ্টিয়া ভান্ডার নামে একটি ফলের আড়ত রয়েছে। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০ বছর আগে তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে ফল চাষের পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সালে চারাগুলো সংগ্রহের আগে তিনি ইউটিউব এবং বিভিন্ন ভ্যানিলা প্রজেক্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে তিনি চারাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং রোপণ পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন। ওই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি ১০ কাঠা জমিতে ভ্যানিলা চাষ শুরু করেন।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, বেগমপুর ইউনিয়নের কলোনিপাড়ায় হুমায়ুন কবির ফরাজী নিজে উদ্যোগী হয়ে ভ্যানিলা চাষ করেছেন। দীর্ঘ চার বছরের পরিচর্যার পর এখন গাছে ফুল ও ফল এসেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই সব ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়ে উঠবে।

