তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বুধবার জর্ডানের রাজধানী আম্মানে জেরুজালেম বিষয়ক একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই বৈঠকে জেরুজালেমের বর্তমান মর্যাদা, অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ত্বরান্বিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে। জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি এই বৈঠকের আয়োজন করেছেন।
বৈঠকে তুরস্ক ছাড়াও জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, বাহরাইন, ইরাক, মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও মালয়েশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া আরব লীগের মহাসচিবও এতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা রক্ষা, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন।
বৈঠকে হাকান ফিদান জেরুজালেমের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরবেন এবং শহরটির আইনি মর্যাদা রক্ষা করাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আল-আকসা মসজিদের মর্যাদা পরিবর্তন, দখলদারিত্বমূলক সন্ত্রাসবাদ এবং জেরুজালেমে খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান ও প্রতিষ্ঠানের ওপর লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করবেন।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলবেন যে, জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনার লঙ্ঘন, যা শহরটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট করে। এছাড়া পূর্ব জেরুজালেমের জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের নীতি, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বাড়িঘর ধ্বংসের বিষয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ জানাবেন। তিনি পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান ডি-ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন বা কার্যত দখলদারিত্ব এবং দখলদার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন।
গাজা প্রসঙ্গে হাকান ফিদান গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তুরস্কের গঠনমূলক ভূমিকার কথা তুলে ধরবেন। তিনি আশা প্রকাশ করবেন যে, এই প্রক্রিয়া পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের জন্যও ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। এছাড়া গাজা শান্তি পরিকল্পনার রোডম্যাপ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের চলমান হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি ইসরায়েলি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন।

