জার্মানির লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে। স্যাক্সনি পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরটিতে ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছাকাছি এই ডিভাইসটি শনাক্ত হওয়ার পর একটি রোবট মোতায়েন করা হয়। রোবটটি বিস্ফোরক ডিভাইসের ডিটোনেটর অপসারণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
একই এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাত বস্তু একটি কার্গো বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিমানটি হ্যানোভারে অবতরণের পর সেটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর লিপজিগ বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়েতে ফ্লাইট চলাচল বুধবার ভোরে স্থানীয় সময় ০১:৫৫ মিনিটে (মঙ্গলবার ২৩:৫৫ জিএমটি) পুনরায় শুরু হলেও দক্ষিণ রানওয়ে এখনো বন্ধ রয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ রানওয়েটি লজিস্টিক কোম্পানি ডিএইচএল-এর একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সাক্সনির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমিন শুস্টার এই ঘটনাকে একটি অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জার্মানির বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা, যেমন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর, জ্বালানি টার্মিনাল, সমুদ্রবন্দর এবং লজিস্টিক কোম্পানির ওপর বেশ কিছু অননুমোদিত ড্রোন ফ্লাইটের ঘটনা ঘটেছে। ফেডারেল পুলিশ সতর্ক করেছে যে, এই ফ্লাইটগুলো রাশিয়ার এজেন্টদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।
লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি জার্মান সামরিক বাহিনী এবং ন্যাটো মিত্রদের সামরিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি ইউক্রেনের আন্তোনভ এয়ারলাইন্সের একটি ঘাঁটি হিসেবেও কাজ করে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেকসি মাকিভ জার্মান গণমাধ্যম ওয়েল্ট টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, "রাশিয়া ছাড়া আর কে হতে পারে?"
২০২৪ সালের জুলাই মাসে একই বিমানবন্দরে একটি ডিএইচএল কার্গো বিমানে লোড করার আগেই একটি পার্সেল বিস্ফোরিত হয়েছিল। এটি ছিল যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাঠানো পার্সেল অগ্নিকাণ্ডের একটি ধারাবাহিক ঘটনা। তদন্তে দেখা যায়, পার্সেলটিতে থাকা ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ পিলোর ভেতরে ইলেকট্রনিক টাইমার ব্যবহার করে বিস্ফোরক ডিভাইস বসানো হয়েছিল। যদিও রাশিয়া এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এর আগে গত বছর লিপজিগ বিমানবন্দর থেকে চীন বরাবর গোয়েন্দা তথ্য ও কার্গো চলাচলের সময়সূচী পাচারের দায়ে এক চীনা নারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

