সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজের ক্ষতি করার দৃশ্য লাইভ স্ট্রিম করার পর ৪ আগস্ট মিয়ামি পুলিশ ৪৮ বছর বয়সী সেলিব্রিটি ব্লগার পেরেজ হিলটনের বাড়িতে জরুরি সাড়া দেয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইনে একজন ব্যক্তির আত্মহননের মতো কাজ করার দৃশ্য লাইভ স্ট্রিম হওয়ার বিষয়ে তারা বেশ কয়েকটি ফোন কল পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শেরিফের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে হিলটনকে নগ্ন অবস্থায় এবং শরীরে রক্তের মতো দাগ নিয়ে দেখা গেছে, যেখানে তাকে বেশ বিচলিত মনে হচ্ছিল এবং তার হাতে একটি ধারালো বস্তু ছিল। তবে এই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শেরিফের কার্যালয় ৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন এবং নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। শেরিফের দপ্তর আরও জানায়, তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত ডি-এসকেলেশন বা উত্তেজনা প্রশমনের মাধ্যমে সময় ও দূরত্ব বজায় রেখে যোগাযোগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেরেজ হিলটনের প্রতিনিধির সাথে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গত জুনে হিলটন ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওর মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, তিনি তার তিন সন্তান এবং মা তেরেসিতা লাভানদেইরার সাথে মিয়ামিতে ফিরে এসেছেন। তার তিন সন্তান মারিও আরমান্দো লাভানদেইরা তৃতীয় (১৩), মিয়া আলমা (১১) এবং মাইতে আমোর (৮) সারোগেসির মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে।
মারিও লাভানদেইরা জুনিয়র নামে পরিচিত হিলটন ২০০৪ সালে তার সেলিব্রিটি গসিপ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচিতি পান। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি পরিচিত এবং জেনিফার অ্যানিস্টন, মাইলি সাইরাস, ক্লোয়ি কারদাশিয়ান ও লেডি গাগার মতো তারকাদের কাছ থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
২০১২ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ব্লগের ধরন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মানুষ তাকে পছন্দ করুক বা না করুক, তিনি কেবল এটি চান যে মানুষ তাকে যেন আর পৃথিবীর জন্য বিষাক্ত মনে না করে। হিলটন আরও বলেছিলেন, তিনি নিখুঁত হওয়ার ভান করছেন না এবং অনেক মানুষ তার প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতে পারে, যা তিনি মেনে নিয়েছেন।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যান, তবে ৯৮৮ নম্বরে কল বা টেক্সট করে সহায়তা নিতে পারেন।

