চীনের সম্ভাব্য আক্রমণের মোকাবিলায় তাইওয়ান বুধবার থেকে তাদের বার্ষিক সামরিক মহড়া শুরু করেছে। বেইজিংয়ের দাবি করা এই স্বশাসিত দ্বীপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। ১০ দিনব্যাপী এই 'হান কুয়াং' মহড়া দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই মহড়ার মাধ্যমে তাইওয়ানের সেনাবাহিনী ২৪ ঘণ্টা প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এবং চীনের 'গ্রে-জোন ট্যাকটিকস' বা সরাসরি যুদ্ধের ঠিক আগের কৌশলগুলো মোকাবিলা করার সামর্থ্য যাচাই করবে। মহড়ায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আদলে নতুন যোগাযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে অধস্তনরা কমান্ডারদের কাছে তাদের মিশন পরিকল্পনার ব্যাখ্যা প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধাদের আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল ও কার্যকর করে তোলা।
এবারের মহড়ায় রেকর্ড সংখ্যক রিজার্ভিস্ট বা সংরক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের যুক্ত করা হয়েছে। দুই ব্রিগেড মিলিয়ে ৫ হাজারেরও বেশি সদস্য এতে অংশ নিচ্ছেন, যা গত বছরের ৩ হাজার সদস্যের তুলনায় অনেক বেশি। মহড়ার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে রিজার্ভিস্টদের দ্রুত সময়ের মধ্যে জরুরি অবস্থা থেকে পূর্ণ সক্রিয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা।
নাগরিক সুরক্ষার ওপর দীর্ঘদিনের গুরুত্বারোপের অংশ হিসেবে এবারের মহড়ায় শহুরে স্থিতিস্থাপকতা বা আরবান রেজিলিয়েন্স ড্রিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজধানী তাইপেসহ কাওশিউং এবং তাইচুং শহরে এই ড্রিল অনুষ্ঠিত হবে। আক্রমণের পরিস্থিতিতে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি অনুকরণ করতে মহড়া চলাকালীন প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হবে।
সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাইওয়ান তাদের সদ্য সংগৃহীত এম১এ২টি আব্রামস ট্যাঙ্কগুলো ব্যবহার করছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ১০৮টি ট্যাঙ্কের সর্বশেষ চালানটি এপ্রিলে দ্বীপটিতে পৌঁছায়। তাইওয়ান তাদের অধিকাংশ অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করে থাকে, যারা চীনের দাবির মুখে দ্বীপটির প্রধান অনানুষ্ঠানিক সমর্থক হিসেবে কাজ করে।
বেইজিং গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে তাদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তা পুনর্দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন প্রায় প্রতিদিন দ্বীপটির কাছে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক চাপ বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাইওয়ানের পার্লামেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয়ের জন্য ২৪.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করেছে। তবে এটি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের প্রস্তাবিত ৪০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। এর আগে মার্কিন কংগ্রেস ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় প্যাকেজ অনুমোদন করলেও, মে মাসে চীন সফরের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রিকে বেইজিংয়ের সাথে আলোচনার 'ভালো দরকষাকষির মাধ্যম' হিসেবে মন্তব্য করেন এবং নতুন কোনো অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদনে বিরত থাকেন।

