জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কিউবাকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক সংকটের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর নিষেধাজ্ঞা কিউবাকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
১৯৬২ সাল থেকে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে কিউবার জ্বালানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা এবং দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর নিয়ন্ত্রণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই কার্যকর তেল অবরোধ এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা দেশটিতে অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। এর ফলে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দেশজুড়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি, পরিবহন এবং সেচ ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং সমাজের অসহায় জনগোষ্ঠীর ওপর। তারা সতর্ক করে বলেছেন, মানবিক পরিস্থিতির এই অবনতি স্বাস্থ্য, জীবন, খাদ্য এবং উন্নয়নের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন যখন জ্বালানি অবরোধ শুরু করে, তখন থেকেই ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। লাখ লাখ কিউবান নাগরিকের জন্য খাবার ও পানি সংগ্রহ করা, যাতায়াত করা এবং রাতে শান্তিতে ঘুমানো পর্যন্ত দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউবায় কর্মরত জাতিসংঘ সংস্থাগুলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকটের বিষয়ে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে খাদ্যকে কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। যেকোনো পদক্ষেপ যা জনগণকে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তা মানুষের মর্যাদা ও জীবনের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কিউবার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ধরনের শত্রুতা ও হুমকি বন্ধ করার এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী সব নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদকে এই সংকটের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা এই বিবৃতিটি দিয়েছেন, যার মধ্যে উন্নয়ন, খাদ্যের অধিকার এবং একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাববিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

