প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি থাকার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ষষ্ঠ মাসে পেন্টাগনের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, অপারেশন এপিক ফিউরি এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার প্রিসিশন ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এছাড়া ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে অস্ত্রের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। তবে বিবিসি এ প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'যারা এই রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক তথ্য ফাঁস করছে, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হবে।' প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর থেকে হেগসেথ পেন্টাগন থেকে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন।
পেন্টাগন ও ট্রাম্প প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত করে আসছে যে, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার এখনো শক্তিশালী। গত মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ১৪ জুন সিবিএস-এর ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে অস্ত্রের ঘাটতির খবরকে 'বানোয়াট গল্প' বলে অভিহিত করেছিলেন।
এদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট মিসাইলের সংখ্যা ২,৩৩০টি থেকে কমে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) মিসাইলের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
ইরান ছাড়াও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্যাট্রিয়ট মিসাইলের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়া একটি বড় পদক্ষেপ হবে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ এখনো আলোচনা করছে। একদিকে অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত মাসে হেগসেথ মার্কিন সিনেটের কাছে ৮৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করেছিলেন, যাতে সামরিক সদস্যদের বেতন ও অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করা যায়।

