২০২৬-২৭ ঘরোয়া মৌসুমকে সামনে রেখে কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাঞ্জাব। সন্দীপ শর্মার স্থলাভিষিক্ত করে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অমিত উনিয়ালকে। এছাড়া ব্যাটিং কোচ হিসেবে টিপি সিং, বোলিং কোচ হিসেবে হারমিত সিং এবং ফিল্ডিং কোচ হিসেবে মনিশ শর্মাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা যথাক্রমে উদয় কাউল, গগনদীপ সিং এবং সন্দীপ সানওয়ালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
উনিয়ালের এই নিয়োগের মাধ্যমে গত চার মৌসুমে চতুর্থবারের মতো প্রধান কোচ পরিবর্তন করল পাঞ্জাব। ২০২৩-২৪ মৌসুমে আবিষ্কার সালভির বিদায়ের পর ওয়াসিম জাফর এবং সন্দীপ শর্মা প্রত্যেকে মাত্র এক মৌসুম করে কোচের দায়িত্বে ছিলেন।
পাঞ্জাবের সাবেক বাঁহাতি পেস-বোলিং অলরাউন্ডার উনিয়াল তার খেলোয়াড়ি জীবনে ২৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ২৯.৯৪ গড়ে ৯১টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া তিনি ৪৬টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ এবং চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ২০০৯ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি চণ্ডীগড়ের বিভিন্ন কোচিং প্যানেল ও নির্বাচন কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০২০-২১ মৌসুমে তিনি দলটির সহকারী কোচ এবং গত মৌসুমে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাঞ্জাব বেশ সফল, বিশেষ করে ২০২৩-২৪ মৌসুমে তারা সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি জিতেছিল। তবে লাল বলের ক্রিকেটে দলটির পারফরম্যান্স একেবারেই আশানুরূপ নয়। শেষ তিন রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে ২১টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ৩টিতে জয় পেয়েছে এবং ১০টিতে পরাজিত হয়েছে।
ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উনিয়াল বলেন, "আজকাল সবাই আইপিএলে খেলতে চায়, তাই তারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ বা মুম্বাই—সবখানেই চিত্রটা একই। তবে আমাদের দলে সম্ভাবনা এবং প্রতিভা রয়েছে, এখন আমাদের শুধু একটি দল হিসেবে খেলতে হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এবার আমরা লাল বলের ক্রিকেটে ভালো করতে চাই। আর সেজন্য এমন বোলার প্রয়োজন যারা প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট নিতে পারবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব।"
গত মৌসুমে পাঞ্জাব দলের খেলোয়াড় নির্বাচনে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল। রঞ্জি ট্রফির শুরুতে নামান ধীর অধিনায়ক থাকলেও মাত্র দুটি ম্যাচের পর উদয় সাহারানকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমনকি শুভমান গিলও একটি ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পুরো মৌসুমে পাঞ্জাব মোট ২৭ জন খেলোয়াড় ব্যবহার করেছিল, যা এলিট গ্রুপগুলোর যেকোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। গৌরব গুপ্তের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিটি এখন এই সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করবে।
গত মৌসুমের দলবদল নিয়ে উনিয়াল বলেন, "গত মৌসুমে কী ঘটেছিল তা আমার জানা নেই। তবে দল যখন জয় পায় না, তখন পরিবর্তন বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি চাই আমাদের দল যেন দলে জায়গা হারানোর ভয় না রেখে লড়াকু ক্রিকেট খেলে। কেউ যদি দলে সুযোগ পায়, তবে তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে।"

