ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান শহরের একটি আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, হাজ্জাহ ও সাদাহ প্রদেশের ওপর দিয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী সৌদি ড্রোনের অনুপ্রবেশের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, রোববার ভোরের দিকে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের commander ও কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং ইরান ও এই অঞ্চলে তার সশস্ত্র মিত্রদের সাথে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। এছাড়া ইরানি বন্দরে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিสำหรับการ ইরানকে "সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ" দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং "বিনা শর্তে" অবরুদ্ধ সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়。
এই সংঘাতের জেরে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ' (সিএসআইএস)-এর একটি নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের মজুত আরও হ্রাস পেয়েছে। এ বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল গত শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের যুদ্ধাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে দ্রুত গতিতে অস্ত্র সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই দ্রুত সরবরাহের উদ্যোগটি পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতের আগেই শুরু হওয়া একটি আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ।
সংঘাতের পূর্বে বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কোনো ফি বা টোল ছাড়াই জাহাজগুলো এই প্রণালী পার হতো। এই চুক্তিটির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ববর্তী একটি পৃথক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের সামনে পুনরায় ৬০ দিনের সময়সীমা চালু করা।

