যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ নিজের ডিম্বাণু ফ্রিজিং (ডিম্বাণু সংরক্ষণ) প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। ৩৬ বছর বয়সী নিউ ইয়র্কের এই প্রতিনিধি আগস্টের ছুটির সময়ে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওকাসিও-করতেজ তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে প্রথম হরমোন ইনজেকশন নেওয়ার মুহূর্তটি সরাসরি শেয়ার করেন। ক্যামেরার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "এই বিষয়টি নিয়ে অদ্ভুত আচরণ করবেন না, যদিও আমি জানি আপনারা সবাই সেটাই করবেন।" তলপেটে ইনজেকশন দেওয়ার পর তিনি হেসে বলেন, "এটি খুব একটা খারাপ ছিল না।" নিজের জীবনের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এই প্রক্রিয়ার খরচই ছিল ওকাসিও-করতেজের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। তার নিজের ক্ষেত্রে এতে অন্তত ৮,০০০ ডলার খরচ হচ্ছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রক্রিয়ায় প্রতি সাইকেলে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যার সাথে যুক্ত হয় মাসিক বা বার্ষিক স্টোরেজ (সংরক্ষণ) খরচ। তবে ডিম্বাণু গলানো (thawing) বা আইভিএফ (IVF) প্রক্রিয়ার খরচ এর অন্তর্ভুক্ত নয়। ওকাসিও-করতেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ইন্সুরেন্স এর এক পয়সাও বহন করছে না। এটি শতভাগ নিজের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। এটি আমার ডিডাক্টিবলেও যোগ হয় না। কিছুই না। এটি কিছুই কভার করে না।" উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ওষুধের খরচ কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল।
ডিম্বাণু ফ্রিজিংয়ের প্রক্রিয়ায় প্রথমে ফার্টিলিটি ক্লিনিক নির্বাচন ও প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন হরমোন ইনজেকশন নিতে হয় এবং নিয়মিত ক্লিনিকে যেতে হয়। এরপর একটি 'ট্রিগার শট' দেওয়া হয় এবং মৃদু অচেতন অবস্থায় (sedation) ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। সবশেষে ডিম্বাণুগুলো ফ্ল্যাশ-ফ্রিজ করে সংরক্ষণ করা হয়। সিবিএস নিউজের মেডিকেল করেসপন্ডেন্ট এবং কেএফএফ হেলথ নিউজের এডিটর-অ্যাট-লার্জ ড. সেলিন গাউন্ডার জানান, ডিম্বাণু ফ্রিজিংয়ের ক্ষেত্রে বয়স সবচেয়ে বড় বিষয়। ৩৫ বছর বা তার কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে আইভিএফ সাইকেলে সন্তান জন্মদানের হার প্রায় ৫০ শতাংশ, যা ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে কমে ২০ শতাংশে নেমে আসে।
ড. গাউন্ডার সতর্ক করে বলেন, ডিম্বাণু যত কম বয়সেই ফ্রিজ করা হোক না কেন, বেশি বয়সে গর্ভধারণ মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ফ্রিজ করা ডিম্বাণুর প্রায় ৮০ শতাংশ গলানোর পর টিকে থাকে এবং আইভিএফ-এর প্রতিটি ধাপে সফলতার সম্ভাবনা কমতে থাকে। ইউসিএলএ হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ডিম্বাণু ফ্রিজ করা নারীদের মধ্যে মাত্র ৫.৭ শতাংশ পরবর্তী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে তা ব্যবহার করতে ফিরে এসেছেন। নারীদের ডিম্বাণু ফ্রিজ করার প্রধান কারণ হিসেবে জীবনসঙ্গী না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অন্যদিকে, পুরুষদের উর্বরতাও বয়সের সাথে কমে। একটি ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে, ৮,৫intent৫টি পরিকল্পিত গর্ভাবস্থার তথ্যানুযায়ী, ২৫ বছরের কম বয়সীদের তুলনায় ৪০ বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের এক বছরের মধ্যে সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা অর্ধেক হয়ে যায়।
ওকাসিও-করতেজ সম্প্রতি এবিসির "দিস উইক" অনুষ্ঠানে জানান, তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বা ইউএস সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তার এই ডিম্বাণু ফ্রিজিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু সমালোচক তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এখনই সন্তান না নেওয়ার সমালোচনা করেছেন। তবে অনেক নারী তাদের নিজস্ব ডিম্বাণু ফ্রিজিংয়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ওকাসিও-করতেজকে সমর্থন জানিয়েছেন।

