কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার ভোরে সংঘটিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিস এবং ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিম কলম্বিয়ার ভূগর্ভের ১০০ কিলোমিটার বা ৬০ মাইল গভীরে। যদিও কলম্বিয়ান কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬.৬ রেকর্ড করেছিল।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের মধ্যে অন্তত ৪০ জন কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল রিসারালদায়, ২৭ জন ভ্যালে দেল কাউকা বিভাগে এবং দুজন ম্যানিজালেস শহরের বাসিন্দা। এই শক্তিশালী কম্পন কলম্বিয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ইকুয়েডর, পানামা এবং ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনামির কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই।
পশ্চিম কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবডোতে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়া পেরেইরা ও ম্যানিজালেস শহরের বিভিন্ন ভবনেও ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কালি শহরের মেয়র আলেজান্দ্রো এডার জানিয়েছেন, তার শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত ঝুঁকির কারণে পশ্চিম কলম্বিয়ার বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
রাজধানী বোগোতায় বাসিন্দারা ভবন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন। মেয়র কার্লোস গালান জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে রাজধানী বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে, তবে কিছু ভবনের সম্মুখভাগে ফাটল দেখা দিয়েছে।
কফি অঞ্চলের ৬৬ বছর বয়সী বাসিন্দা মার্থা এস্ট্রাডা জানান, ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ ও মোবাইল সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কম্পনটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, যার ফলে ঘরে থাকা জিনিসপত্র পড়ে গিয়েছিল। বোগোতার ২৯ বছর বয়সী ভ্যালেরিয়া পোলোও ভূমিকম্পটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকরা কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ আফটারশক এবং ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে সতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, তিনি উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সফর করবেন।

