সমালোচনার ‘নয়েজ’ নিয়ে বিচলিত নন রোহিত শর্মা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের ফর্ম নিয়ে চলা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন রোহিত শর্মা। দীর্ঘ সময় ধরে রানখরায় ভোগা এই প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ককে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামুখী জল্পনা চলছিল। লর্ডসের এই ম্যাচের আগে আট ইনিংসে ৩০.১২ গড়ে মাত্র ২৪১ রান করেছিলেন তিনি, যার স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৮.৬০। তবে লর্ডসে ১১০ বলে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন তিনি। যদিও তার এই ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত ভারতের ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হারের সাক্ষী হয়েছে।

ম্যাচ শেষে বিসিসিআই ডট টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিত জানান, মাঠের বাইরের তথাকথিত ‘নয়েজ’ বা গুঞ্জন তার ব্যাটিংয়ে কখনোই প্রভাব ফেলে না। তিনি বলেন, আমার কাজ হলো ব্যাট করা, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখা। অভিষেকের পর থেকেই এই গুঞ্জন শুনে আসছি এবং যতদিন খেলব, তা থাকবেই। মাঠের বাইরের এসব বিষয় নিয়ে আমি মোটেও ভাবি না। আমার পুরো মনোযোগ থাকে মাঠের পারফরম্যান্সে। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনো নয়েজ না থাকে, তবে খেলার আনন্দই থাকে না। আমার কাজ মাঠের ভেতরে, আর তাদের কাজ বাইরে। আমি এভাবেই বিষয়টিকে দেখি।

লর্ডসের এই ম্যাচে রোহিত ও বিরাট কোহলির জুটিতে ১১৩ রান যোগ হয়। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে তাদের ২১তম সেঞ্চুরি জুটি। এর ফলে তারা কুমার সাঙ্গাকারা ও তিলকরত্নে দিলশানের (২০) রেকর্ড ভেঙে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলী (২৬)। কোহলির সঙ্গে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রোহিত বলেন, আমরা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একসঙ্গে খেলছি। তার সঙ্গে ব্যাটিং করাটা সবসময়ই আনন্দের। আমরা একে অপরকে দারুণভাবে বুঝি এবং উইকেটে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন আইডিয়া শেয়ার করি।

ম্যাচটি জিততে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন রোহিত। তিনি বলেন, ফলাফল নিয়ে কিছুটা হতাশ। বার্মিংহামে আমরা ভালো ক্রিকেট দিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু কার্ডিফে রান কম হওয়ায় পিছিয়ে পড়ি। লর্ডসেও বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ২০-২৫ রান পিছিয়ে ছিলাম। দলের তরুণ বোলারদের নিয়েও আশাবাদী রোহিত। তিনি জানান, এই বোলাররা এখনো অনেক ওয়ানডে খেলেনি, তাই তাদের সময় দেওয়া প্রয়োজন। আশা করি, এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। সবশেষে রোহিত জানান, ইংল্যান্ডে খেলতে তিনি বরাবরই পছন্দ করেন কারণ এখানকার কন্ডিশন তাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ জানায়। এখন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

Related posts